Athletics News: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক কিশোর-কিশোরীই অ্যাথলেটিক্স-সহ বিভিন্ন খেলায় ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সমস্যা বা উপযুক্ত সুযোগের অভাবে তারা বড় মঞ্চে পৌঁছতে পারছে না।

DID YOU
KNOW
?
অ্যাথলেটিক্সে সাফল্য
ছোটবেলা থেকেই অ্যাথলেটিক্সে অসাধারণ সাফল্য পাচ্ছে হলদিবাড়ির মেয়ে মিঠি রায়। বড় অ্যাথলিট হয়ে ওঠাই তার লক্ষ্য।

Sports News: অভাবের সংসারে যেখানে দু'বেলা অন্নসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখল হলদিবাড়ির (Haldibari) ছোট্ট মেয়ে মিঠি। দারিদ্র্যের দেওয়াল টপকে জেদ আর একাগ্রতাকে সঙ্গী করে ৪২তম জেলা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাক লাগিয়ে দিল সে। কোচবিহারের (Cooch Behar) প্রাণনাথ হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় মেখলিগঞ্জ (Mekliganj) মহকুমার প্রতিনিধিত্ব করে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মিঠি রায়। 'গ' বিভাগে ফুটবল ছোঁড়া ইভেন্টে ৮.৮৫ মিটার দূরে বল ছুঁড়ে সবাইকে পিছনে ফেলে পুরস্কার ছিনিয়ে নেয় সে। হলদিবাড়ি পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দ কলোনির এক সাধারণ দিনমজুর পরিবারে জন্ম মিঠির। বাবা সাজু রায় দিনমজুরি করে সংসার চালান। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে মিঠির এই সাফল্য যেন এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। তার এই জয়ে শুধু তার পরিবার নয়, আনন্দে আত্মহারা হলদিবাড়ি গার্লস প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

থেমে থাকতে নারাজ মিঠি

ব্লক ও মহকুমা স্তরে সেরার তকমা পাওয়ার পর এবার জেলা জয়। কিন্তু মিঠি এখানেই থামতে চায় না। তার পরবর্তী লক্ষ্য এবার রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা। শিক্ষকদের মতে, প্রতিকূলতা মিঠির শরীরের শক্তি কেড়ে নিতে পারেনি, বরং তার মানসিক জেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 'মেয়ের এই সাফল্যে ভাষা হারিয়েছি। ও যেন রাজ্য থেকেও জয়ী হয়ে ফিরতে পারে, এটাই এখন প্রার্থনা,' আবেগঘন কণ্ঠে জানালেন মিঠির বাবা সাজু রায়। হলদিবাড়ির এই বিস্ময় বালিকা এখন সারা জেলার গর্ব । প্রতিকূলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে মিঠি বুঝিয়ে দিল সাফল্যের আকাশটা সবার জন্য খোলা। শুধু ডানা ঝাপটানোর সাহসটা থাকা চাই।

বড় হতে চায় মিঠি

রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেলে তারপর জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবে মিঠি। তার বয়স অনেক কম। এই বয়সেই তার মধ্যে সাফল্যের খিদে ও জেদ দেখা যাচ্ছে। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে সে অনেকদূর যেতে পারে। সেই আশাই করছে পরিবার ও স্কুল।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।