নীরজ কুমার থেকে মেরি কম - অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী সকলের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। শুনলেন তাঁদের সংগ্রামের কাহিনি, দিলেন জয়ের মন্ত্র।

'প্রত্যাশার চাপ নিও না, ১০০ শতাংশ দেওয়ায় মনোনিবেশ করো'। টোকিও অলিম্পিকে ভারতের পদক জয়ের অন্যতম সম্ভাব্য দাবিদার নীরজ চোপরাকে এই জয়মন্ত্রই দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তবে নীরজ'কে উদ্দেশ্য করে বললেও ভারতের সকল অলিম্পিকগামী ক্রীড়াবিদদেরই এই মন্ত্র দিলেন নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার, শ্যুটার, তীরন্দাজ থেকে শুরু করে বক্সার, দৌড়বিদ - টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে যাওয়া সকল ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তীরন্দাজ দীপিকা কুমারী ও প্রবীন যাদবের সঙ্গে কথার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর এই কথোপকথন পর্ব। দীপিকা এবং প্রবীন দুজনেই প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের সংগ্রাম এবং টোকিও অলিম্পিকের প্রস্তুতির হাল হকিকত তুলে ধরেন।

এরপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় জ্যাভেলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার সঙ্গে। সম্প্রতি কাঁধের চোট সারিয়ে উঠেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন তিনি। এরপর, প্রধানমন্ত্রীর কথা হয় স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদের সঙ্গে। ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, পুরো দেশ দ্যুতিকে টোকিওয় জয়ের পোডিয়ামে দেখতে চায়। দ্যুতিও জবাবে জানিয়েছেন, দেখিয়ে দেবেন ভারতে কোনও মহিলা পিছিয়ে নেই।

সম্প্রতি কোভিড-১৯ জয় করে উঠেছেন বক্সার আশীষ কুমার। সেইসঙ্গে বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে তুলনা করেন। ১৯৯৯ সালে বাবার মৃত্যুর পরও বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলে গিয়েছিলেন সচিন। বক্সার এমসি মেরি কম-কে প্রধানমন্ত্রী গোটা দেশের অনুপ্রেরণা বলে বর্ণনা করেন। অপর দিকে মেরি কম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে বাড়ির বাইরে গেলে তাঁর বাচ্চারা তাঁকে খুব মিস করে। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯'এর কারণে তিনি বাচ্চাদের বাড়ির ভিতরেই থাকতে বলে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মেরি কম জানান, কিংবদন্তি মার্কিন বক্সার মহম্মদ আলিই তাঁর আদর্শ।

এরপর ২০১৬ রিও অলিম্পিকের রৌপ্যপদক-জয়ী পিভি সিন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সিন্ধু আসন্ন গেমসের ট্রেনিং-এর জন্য মোদী সরকার যেভাবে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন পিভি সিন্ধুর বাবাও। তিনি ছোট শিশুদের খেলাধুলা করার সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

Scroll to load tweet…

শুটার ইলাভেনিল ভালারিভান দীর্ঘদিন গুজরাটে কাটিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে গুজরাটি ভাষাতেই শুভেচ্ছা জানিয়ে কথোপকথন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কলেজছাত্রী হওয়ায় শুটিং-এর সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা কতটা চ্য়ালেঞ্জের, সেই বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন তিনি। আরেক শ্যুটার সৌরভ চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী মোদী জিজ্ঞেস করেছিলেন মনোনিবেশের সহায়তার জন্য তিনি কোনও ধ্যান বা যোগা করেন কিনা। ভারতের অন্যতম পদক জয়ের সম্ভাব্য দাবিদার সৌরভ প্রধানমন্ত্রীকে তার দৈনিক রুটিন জানান। সেইসঙ্গে জানান, কীভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় তিনি মলকে শান্ত রাখেন।

আরও পডুন - অলিম্পিকের আগেই ইতিহাস গড়ল গোপীচাঁদের সংস্থা, ভারতীয় দল পাচ্ছে 'স্মার্ট ধ্যানা রিং

আরও পডুন - কোন বিভাগে যাচ্ছেন কত জন তারকা, জানুন টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় দলের সম্পূর্ণ তালিকা

আরও পড়ুন - 'নয়া ভারতের প্রতিচ্ছবি' নীরজ, মেরি কম'দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন অলিম্পিক জয়ের মন্ত্র

একই সঙ্গে পোড় খাওয়া টেবিল টেনিস প্লেয়ার শরৎ কমলকে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দায়িত্বদিয়েছেন অলিম্পিকে যুব ক্রীড়াবিদদের গাইড করতে। মহিলা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মনিকা বাত্রা আবার অভাবী শিশুদের টেবিলটেনিস খেলা শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগের জন্য জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ২৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে টোকিও অলিম্পিক। প্রধানমন্ত্রী ভারতের অলিম্পিকগামী দলের ক্রীড়াবিদদের ''নয়া ভারত'এর প্রতিচ্ছবি' বলে উল্লেখ করেছেন। উত্সর্গ, সংকল্প এবং শৃঙ্খলার মতো গুণের জোরেই তাঁরা এই জায়গায় পৌঁছেছেন। দৃঢ়তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'খুব শীঘ্রই,বিজয় এই নতুন ভারতের অভ্যাসে পরিণত হবে'। মঙ্গলবারের এই আলোচনায় ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন নতুন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নরিন্দর বাত্রা।