অফিসের মেইল লেখা থেকে রান্নার রেসিপি, সবকিছুতেই এখন AI-এর সাহায্য নিচ্ছেন? সাবধান! আপনার দেওয়া প্রতিটি তথ্যই AI মনে রাখছে এবং তা লিক হয়ে যেতে পারে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫টি জিনিস ভুলেও কোনও AI চ্যাটবটকে জানাবেন না, না হলে খালি হয়ে যেতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে চুরি হতে পারে আপনার পরিচয়।

আজকাল ChatGPT, Gemini, Copilot ছাড়া আমাদের একটা দিনও চলে না। হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে অফিসের প্রেজেন্টেশন, সিভি বানানো, এমনকি প্রেমপত্র লেখার জন্যও আমরা AI-এর উপর ভরসা করছি। কিন্তু এই বন্ধুত্বের আড়ালে যে কত বড় বিপদ লুকিয়ে আছে জানেন কি?

আপনি AI-কে যা কিছু লেখেন, তার সবটাই তার সার্ভারে সেভ হয়ে যায় এবং AI-কে ট্রেনিং করানোর কাজে ব্যবহার হয়। কোম্পানিগুলো বললেও, ১০০% প্রাইভেসির গ্যারান্টি কেউ দেয় না। একবার ডেটা লিক হলে আপনার সর্বনাশ হতে পারে। তাই এই ৫টি তথ্য ভুলেও AI চ্যাটবটকে দেবেন না।

*১. ব্যাঙ্ক, পাসওয়ার্ড ও আর্থিক তথ্য:*

এটা সবচেয়ে বড় ভুল। "আমার ক্রেডিট কার্ড নম্বর ৪৫৬... আমার পাসওয়ার্ড মনে রাখো" - এই ধরনের কথা ভুলেও AI-কে বলবেন না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, UPI পিন, CVV, ATM পিন, নেট ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ড AI-কে দিলে তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। AI কখনওই আপনার ব্যাঙ্কের লকার নয়।

*২. আধার, প্যান, ভোটার কার্ডের নম্বর:*

আধার নম্বর, প্যান নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ছবি বা নম্বর কখনও AI-তে আপলোড করবেন না। এই তথ্য দিয়ে আপনার নামে ভুয়ো পরিচয়ে ক্রিমিনালরা লোন নিতে পারে, সিম কার্ড তুলতে পারে। পরিচয় চুরির সবচেয়ে বড় কারণ এটাই।

*৩. বাড়ির ঠিকানা, লাইভ লোকেশন ও ব্যক্তিগত ছবি:*

"আমি এখন একা বাড়িতে আছি, আমার ঠিকানা হল..." - এমন তথ্য AI-কে দেওয়া মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। আপনার ব্যক্তিগত ছবি, পরিবারের ছবি, বাচ্চার ছবি দিয়ে Deepfake বানানো হতে পারে। লোকেশন শেয়ার করলে চুরি বা অন্য অপরাধের ঝুঁকি বাড়ে।

*৪. অফিসের গোপন তথ্য ও ক্লায়েন্টের ডেটা:*

অনেকেই অফিসের কনফিডেনশিয়াল মিটিং-এর নোট, কোম্পানির সেলস ডেটা, ক্লায়েন্টের ইমেল আইডি AI দিয়ে সাজিয়ে নেন। এটি কোম্পানির প্রাইভেসি পলিসির চরম লঙ্ঘন এবং আপনার চাকরিও চলে যেতে পারে। কারণ ওই তথ্য AI-এর কাছে চলে গেলে তা আর গোপন থাকে না।

*৫. শারীরিক অসুস্থতা ও অত্যন্ত ব্যক্তিগত কথা:*

ডাক্তারের রিপোর্ট, মানসিক সমস্যার কথা, সম্পর্কের জটিলতা - এগুলো AI-কে বলা মানে আপনার সবচেয়ে দুর্বল জায়গাটা অচেনা কাউকে দিয়ে দেওয়া। AI ডাক্তার নয়, তার পরামর্শ ভুল হতে পারে এবং আপনার এই সংবেদনশীল তথ্য বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যেতে পারে।

*তাহলে কী করবেন?*

AI ব্যবহার করুন, কিন্তু বুদ্ধি করে। সবসময় "Incognito" বা "Temporary Chat" অপশন ব্যবহার করুন, যাতে চ্যাট হিস্ট্রি সেভ না হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, AI-কে নিজের ডায়েরি ভাববেন না।