নতুন গ্রহের সন্ধান ও মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে উৎক্ষেপণ করা হল ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ’। সংবাদসংস্থা নাসা ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। স্পেসএক্স-এর ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে এটি গভীর মহাকাশের উদ্দেশ্যে তার যাত্রা শুরু করেছে।

নতুন গ্রহের সন্ধান ও মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে উৎক্ষেপণ করা হল ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ’। সংবাদসংস্থা নাসা ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। স্পেসএক্স-এর ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে এটি গভীর মহাকাশের উদ্দেশ্যে তার যাত্রা শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ‘লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ’ থেকে ভারতীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটের দিকে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি অভিযানের সূচনা হল, যা মহাবিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার পদ্ধতি বদলে দিতে পারে।

মহাকাশের রহস্য উন্মোচনে রোমানের যাত্রা

রোমান টেলিস্কোপটি এখন পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত 'সূর্য-পৃথিবী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২' বা 'এল২' (L2)-এর দিকে এগিয়ে চলেছে। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী সাধারণ কৃত্রিম উপগ্রহের মতো না হয়ে রোমান 'সূর্য-পৃথিবী এল২' অঞ্চলের আশপাশে কাজ করবে। এর ফলে এটি মহাবিশ্বের এক বিশাল ও তুলনামূলকভাবে বাধাহীন দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবে।

ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ কী?

নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী প্রয়াত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামানুসারে এই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালে উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পরবর্তী সংস্করণ; এর এমন সব সক্ষমতা রয়েছে যা ওই অগ্রগামী মানমন্দিরগুলো থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে আরও প্রসারিত করতে পারবে—যার উভয়টিই এখনও কার্যকর রয়েছে।

এই যাত্রায় প্রায় এক মাস সময় লাগার কথা

এল২-এর পথে রওনা হওয়ার পর রোমান তার নিজস্ব প্রপালশন বা চালিকাশক্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় গতিপথ পরিবর্তন ও কৌশল সম্পন্ন করবে, যাতে এটি ওই অঞ্চলের নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারে। তবে এল২-তে পৌঁছলেই যে রোমান তাৎক্ষণিকভাবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শুরু করবে, তা কিন্তু নয়। নাসা প্রায় তিন মাসব্যাপী একটি 'কমিশনিং' বা প্রস্তুতি পর্বের পরিকল্পনা করেছে। এই সময়ে ইঞ্জিনিয়াররা বিভিন্ন সিস্টেম ও যন্ত্রপাতি স্থাপন ও সচল করবেন, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন এবং বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টেলিস্কোপটিকে প্রস্তুত করে তুলবেন।

ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রোমানকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি আকাশের কোনও নির্দিষ্ট বস্তুর উপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে বিশাল এলাকা জুড়ে জরিপ চালাতে পারে। এর ২.৪ মিটার ব্যাসের প্রাথমিক আয়নাটি (primary mirror) হাবল টেলিস্কোপের আয়নার মতোই বড়। কিন্তু এর 'ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট' (Wide Field Instrument) একবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই হাবলের দৃশ্যসীমার (field of view) চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বড় এলাকার উপর নজর রাখতে সক্ষম। এই টেলিস্কোপটি ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার নিয়ে অনুসন্ধান চালাবে, গ্যালাক্সি বা ছায়াপথগুলোর বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর সন্ধান করবে।

সহজ কথায়, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ যেখানে মহাজাগতিক বস্তুগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে দেখার (জুম-ইন করার) ক্ষমতা রাখে, সেখানে রোমানকে তৈরি করা হয়েছে মহাবিশ্বের সামগ্রিক চিত্র বা বৃহত্তর দৃশ্যপট জরিপ করার জন্য। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে রোমান তার পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক জরিপ শুরু করবে। এটি মহাবিশ্বের এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে এবং এমন সব তথ্য সংগ্রহ করবে যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।