মেটা প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে চলেছে। শীঘ্রই, মেটাকে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো রাতে ও দিনে দুই ঘণ্টার জন্য ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য করা হবে।
মেটা প্ল্যাটফর্ম এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে চলেছে। শীঘ্রই, মেটাকে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো রাতে ও দিনে দুই ঘণ্টার জন্য ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য করা হবে। মেটা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতের সঙ্গে একটি চুক্তিতে প্রবেশ করেছে, যেখানে তারা কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের সঙ্গে ১৪ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা) একটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। এই নিয়মগুলো ১৮ বছরের কম বয়সের কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই তথ্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোনটার কার্যালয় থেকে পাওয়া গেছে। তবে, মেটা কবে থেকে এই নিয়মগুলো কার্যকর করবে সে সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মামলাটি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছিল। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মেটার বিরুদ্ধে একটি বড় মামলা শুরু হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ২৮টি আদালতের মামলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মামলাটিতে মেটার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তাদের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম শিশুদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও, এটি তার অ্যাপগুলোতে এমন কিছু ফিচার যুক্ত করেছে, যা মানুষকে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি আদালতে ফেসবুকের মূল সংস্থা মেটার বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন ছিল, যা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। মেটাকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে এবং কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটির অবসান ঘটবে। মেটা অন্য একটি মামলাতেও স্বস্তি পাবে। আদালতে মেটার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে, এর প্ল্যাটফর্ম ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব ফিচার তৈরি করেছে যা মানুষকে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে প্ররোচিত করছে। এছাড়াও, সংস্থাটি শিশু সুরক্ষায় অবহেলা করেছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; অতিরিক্ত সময় ধরে স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা কমানো এবং অভিভাবকদের হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিধিনিষেধগুলো আনা হচ্ছে। ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে দৈনিক ব্যবহারের একটি ডিফল্ট সময়সীমা থাকবে—দুই ঘণ্টা। এই সময়সীমা বা বিধিনিষেধ পরিবর্তন বা অপসারণ করতে হলে অভিভাবকদের অনুমতির প্রয়োজন হবে। উভয় অ্যাপ মিলিয়ে মোট সময় এই দুই ঘণ্টার সীমার মধ্যেই গণ্য করা হবে।
কিশোর-কিশোরীরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে পারবে না। স্কুল চলাকালীন সময়ে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নোটিফিকেশনগুলো ডিফল্টভাবে বন্ধ (মিউট) থাকবে। তবে ডাইরেক্ট মেসেজ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাগুলো যথারীতি আসতে থাকবে।
দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়ার জন্য কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিতভাবে মেসেজ করা হবে। এই সমঝোতা চুক্তিতে আরও কিছু বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বয়স যাচাইয়ের উন্নত প্রযুক্তি, অভিভাবকদের জন্য সহজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষার অতিরিক্ত ব্যবস্থা। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে যেসব ফিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলুতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পাবলিক লাইক কাউন্ট’ (কতজন লাইক দিয়েছে তা প্রকাশ্যে দেখানো) এবং নির্দিষ্ট কিছু ‘বিউটি ফিল্টার’।


