তাপস দাস: খুব নিরপেক্ষভাবে দেখলে, বাবুল সুপ্রিয়কে বিতর্কিত বাবুল নামে ডাকাই যায়। তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, নাকি বিতর্ক টেনে আনেন, তা বলা মুশকিল। কিন্তু বিতর্ক ও বাবুল পরস্পরের সঙ্গেই থাকে। সে সম্প্রতি মেয়েরা পরের সম্পত্তি বলে মমতাকে উৎখাত করার ডাক হোক বা কিছুদিন আগে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং নিয়ে হনুমাঁ বিহারীর সমালোচনাই হোক। 

আরও পড়ুন-বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণে শিশু মৃত্যর ঘটনা, রিপোর্ট তলব কমিশনের...

বাবুলের রাজনৈতিক উত্থান চোখে পড়ার মতই দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। ৭০ সালে জন্ম তাঁর। ইতিমধ্যেই দু বার সাংসদ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তিনটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংসদ থাকা অবস্থাতেই তাঁকে বিধানসভার টিকিটও দিয়েছে তাঁর দল। এবার তিনি লড়ছেন টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে।  বাবুলের জন্ম কিন্তু টালিগঞ্জ বা তাঁর লোকসভা কেন্দ্র আসানসোল নয়। তিনি জন্মেছেন হুগলিতে। বাণীকণ্ঠ বড়ালের পরিবারে জন্মগ্রহণের সূত্রে সঙ্গীতে তাঁর দীক্ষাপ্রাপ্তি ছোটবেলা থেকেই। ডন বস্কো স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তাঁর গানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছু পুরস্কারও পান তিনি। হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ থেকে তিনি বি কম পাশ করেন। সঙ্গীত জগতে প্রবেশের সময়েই তিনি নিজের সুপ্রিয় বড়াল নাম বদলে রাখেন বাবুল সুপ্রিয়। 

আরও পড়ুন-নন্দীগ্রামে প্রচারে ঝড় তুলবেন মিঠুন চক্রবর্তী, দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু...

২০১৪ সালে ভোটে জেতার পরও তাঁকে মন্ত্রী করা হয়েছিল। তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।  এ হেন বাবুল বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন, এসব কারণে নয়। তাঁর বেফাঁস মন্তব্যই বারবার তাঁকে সংবাদ শিরোনামে নিয়ে এসেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো থেকে শুরু করে, মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে বাগযুদ্ধের সুবাদে আইনি নোটিশ প্রাপ্তির কারণে তিনি খবর হয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় মুসলিম যুবককে দেশ ছাড়া দেবার হুমকি দিয়ে তিনি প্রবল রোষের সামনে পড়েছেন। কিন্তু এসবে তাঁকে দমানো যায়নি। তিনি ভক্ত।  নরেন্দ্র মোদীর, অটলবিহারী বাজপেয়ীর। এবং তিনি সোশাল মিডিয়ায় তুমুল সক্রিয়। 

আরও পড়ুন-কী এমন ঘটল বাঁকুড়ায় মোদীর সভায়, আবেগে ভেসে প্রধানমন্ত্রী শেয়ার করলেন ভিডিও...

সেই সোশাল মিডিয়াতেই তিনি সম্প্রতি অমিত শাহের ছবি দেওয়া একটি পোস্টার শেয়ার করেন, যার প্রতিপাদ্য ছিল, মেয়েরা পরের সম্পত্তি, তাদের বিদেয় করতে হয়। এর পাল্টা বহুল সমালোচনার মুখে পড়ে বাবুল বলেন, তিনি ওই পোস্টার শেয়ার করেছেন মাত্র। তিনি মেয়েদের পরের সম্পত্তি মনে করেন না। এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। সতীদাহ নিবারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। পরে ভুল শুধরোনোর জন্য সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন যেমন, তেমনই সমালোচকদের নিয়ে মশকরা করতেও ছাড়েননি। এ হেন বাবুল সুপ্রিয় টালিগঞ্জের প্রার্থী হওয়ায় বিজেপি, বিনোদন মহলে বিনোদন জগতের প্রতিনিধি দিতে পেরেছে। বাবুলের এখন উইন উইন সিচুয়েশেন। জিতলে টলিপাড়ার বিধায়ক, হারলে সাংসদ পদ তো রইলই।