হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে মুর্শিদাবাদে বিজেপির ১০০ কিলোমিটার রথ যাত্রার পথে পুলিশি বাধায় ধুন্ধুমার, হেনস্থার মুখে উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী। রমাপদ সরকার নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা বিজেপির পরিবর্তনের রথযাত্রা নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের  রায়ে ছাড়পত্র মেলার পরেও বিজেপির রথযাত্রা  মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহাকুমার অন্তর্গত সাগরদিঘী থেকে রঘুনাথগঞ্জ গামী রাজ্য সড়কের মনি গ্রামে এলাকায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।

আরও পড়ুন, কোর্টের রায় উপেক্ষা করে বিজেপির রথ যাত্রা, পুলিশি বাধায় ধুন্ধুমার, হেনস্থার মুখে মন্ত্রী 

 

 


শুক্রবার  মুর্শিদাবাদে  রথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে  ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশের। তড়িঘড়ি সাগরদিঘী থানা সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক থানা এলাকা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পরিস্থিতি সামাল দিতে। এমনকি ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সেখানে হস্তক্ষেপ করেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী পর্যন্ত।এর পরেই এদিন রথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় বসে পথ অবরোধের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

 

আরও পড়ুন, 'এবার দর্শকের ভূমিকাতেই থাকতে হবে মমতাকে', দীনেশের ইস্তফা দিতেই তোপ দিলীপ-কৈলাসের 

 

 

 

 এ ব্যাপারে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী সাফাই দিয়ে বলেন,' ওই রথযাত্রার রুটে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের বিশেষ সভা ছিল। তার মধ্যে দিয়ে রথ এগুলো  কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই পুলিশ তাদের রথের অভিমুখ অন্যদিকে ঘোরানোর কথা বলে। সেই নিয়েই সমস্যার সূত্রপাত।' যদিও এদিন এর প্রায় স্থানীয় ডাকবাংলো মোড় থেকে জিয়াগঞ্জ হয়ে লালবাগ শহরপর্যন্ত১০০কিলোমিটারের এই রথ যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন উত্তরাখণ্ডের সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাজেশকুমার এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির পরিবর্তনের রথ যাত্রার দায়িত্বপ্রাপ্ত কল্যাণ চৌহান সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তথা উত্তর মুর্শিদাবাদ যুব মোর্চা সাধারণ সম্পাদক দেবাঞ্জন মজুমদার সহ অন্যান্যরা।এই রথযাত্রা কে কেন্দ্র করে ক্রমশ পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে এদিন।উত্তরাখণ্ডের সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাজেশকুমার বলেন,' পুলিশ গায়ের জোরে আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে বাধা দিতেই এই রথ যাত্রার পথ আটকে দেয়।' 

 

আরও পড়ুন, Election Live Update-মোদী-শাহ-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ দীনেশ, দিল্লিতে দিব্যেন্দুও, জল কোন দিকে  


যদিও পুলিশের দাবি, ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আটকানো হয়নি। এদিন রাজ্যজুড়ে বামেদের ডাকে বাংলা বন্‌ধ চলায় বিজেপি নেতাদের রথ নিয়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়। সময়মত রথযাত্রা হলে বাধার প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু তা দেরি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থেই থেমে যেতে বলা হয়। পরে রথযাত্রা এগিয়ে যায় জিয়াগঞ্জের দিকে।রাজ্যে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নিয়ে আইনি জট ছিল। প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল জটিলতা। প্রাথমিকভাবে যেসব জেলার মধ্যে দিয়ে রথযাত্রা হওয়ার কথা, সেইসব জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে ছাড়পত্র মিলতে পারে বলে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছিল।  

 

 

বৃহস্পতিবার এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট  নির্দিষ্ট রায় দেয়। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ রুখতে হাই কোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু হলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে, এই আশঙ্কায় তা বন্ধ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন রমাপদ সরকার নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু  বিচারপতি সাফ জানান, এটা কোনও জনস্বার্থ মামলা হতে পারে না। বরং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক সমস্যা মেটানোর জন্যই এটা মামলা আকারে পেশ করা হয়েছে।এরপরও এদিন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সড়কের মনিগ্রামের কাছে রথ পৌঁছলে, তা আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে রথ থেকে নেমে বিজেপি কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। যদিও পুলিশের দাবি, ‘পরিবর্তন যাত্রা’ আটকানো হয়নি। পরে  বিজেপির এই রথযাত্রা রথযাত্রা দলীয় সমর্থকদের নিয়ে নবাব নগরী লালবাগের দিকে রওনা দেয়।