আইপিএস-দের নিয়োগ করা হয় ইউপিএসসি-র মাধ্যমে। এদের নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ-সবেরই দায়িত্ব বর্তায় কেন্দ্রীয় সংস্থা ইউপিএসসি-র মাধ্যমে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে আইপিএস-দের পাঠানো হয় রাজ্যে রাজ্যে। ইউপিএসসি যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি নিয়ন্ত্রিত সংস্থা। সুতরাং, বকলমে আইপিএস-দের মূল নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও, একবার কোন রাজ্যে পোস্টেড হলে আইপিএস-দের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্যের। ফলে, কেন্দ্র চাইলেই দুম করে আইপিএস-দের কেন্দ্রীয় সরকারের ডিউটি-তে ডেকে পাঠাতে পারে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে নো-অবজেকশন থাকাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু, তা বলে যে কেন্দ্রের হাতে আইপিএস-দের নিয়ন্ত্রণের কোনও ক্ষমতা নেই এমনটাও আবার নয়। 

 

আরও পড়ুন, 'রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নেই', ভোটের আগে সরব জাতীয় মহিলা কমিশন

 

আইপিএস-দের যে সার্ভিস রুল রয়েছে, তাতে পরিস্কার বলা রয়েছে কেন্দ্র ডেপুটেশনে আইপিএস-দের চাইলে রাজ্যের কিছু করার নেই। সার্ভিস রুলের ৬১(১) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্র ইচ্ছে করলে আইপিএস-দের ডেপুটেশনে ডাকতেই পারে। এক্ষেত্রে রাজ্যের আপত্তি ধোপে টিকবে না। সবচেয়ে বড় কথা রাষ্ট্রপতির সই সাপেক্ষে সর্বভারতীয় ক্যাডার অফিসারদের নিয়োগে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই শেষ কথা বলবে। ফলে, পশ্চিমবঙ্গের তিন আইপিএস রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠী এবং ভোলানাথ পাণ্ডে-র ডেপুটেশন-এর যে নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা দিয়েছেন তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে মানতেই হবে। 

 

আরও পড়ুন, 'এই হিংসার জন্য রাজ্য সরকারকে জবাব দিতে হবে' নাড্ডার সফরে হামলার পরে বাংলায় আসবেন শাহ

 

বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কনভয়ে যে হামলা হয়েছিল সে সময় সেখানে ডিউটি-তে মোতায়েন ছিলেন এডি়জি দক্ষিণবঙ্গ রাজীব মিশ্র, ডিআইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ প্রবীণ ত্রিপাঠী এবং ডায়মন্ডহারবারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে। নাড্ডার কনভয়ে হামলাচর জন্য পুলিশি নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ এনেছে বিজেপি। পুলিশি নিরাপত্তায় গাফিলতির কথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও কেন্দ্র পাঠানো রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন। এমনকী, পুলিশ পশ্চিমবঙ্গে দলদাসেও পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে লাগাতারভাবে অভিযোগ করে আসছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সবচেয়ে বেশি চটেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের টুইটে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে নাড্ডার কনভয়ে কিছুই হয়নি। সকলেই ঠিক আছেন। 

 

আরও পড়ুন, ব্রাত্য 'বাঙালি', বাংলার ভোট-যুদ্ধ জয়ে 'অবাঙালি' 'পঞ্চপান্ডব' পাঠাল বিজেপি

 

ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাচ্ছিলেন জেপি নাড্ডা। তাঁর সঙ্গে ছিল বিশাল গাড়ির কনভয়। যে কনভয়ে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে শুরু করে মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, অনুপম হাজরাদের গাড়ি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার রোডের উপরে শিরাকোল ছাড়িয়ে কনভয় একটু এগোতেই তাতে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। এমনকী, গাড়ির গায়ে লাঠি এবং চড়-থাপ্পড় এবং লাথিও মারা হয়। পুরো ছবি ভিডিও-তে ধরা পড়ে। গাড়ির কাঁচ ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায় ইটের আধলা টুকরো, কোল্ড ড্রিঙ্কসের কাঁচের বোতল। কৈলাস বিজয়বর্গীয়-র গাড়ির কাঁচ পুরো ভেঙে যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়ি, বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার গাড়ি। এমনকী, এতে দুই নিরাপত্তারক্ষীও গুরুতর জখম হন। 

আরও পড়ুন, '১০ বছরে কী কী পেল মেয়েরা, জানাও' ফলাও করে, মহিলা ভোটকে লক্ষ্য করে জিততে মরিয়া তৃণমূল

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা যে চিঠি রাজ্যকে পাঠিয়েছেন তাতে রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠী এবং ভোলানাথ পাণ্ডেকে দিল্লিতে ডেপুটেশনে যোগ দিতে বলা হয়েছে।  ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই নিয়ে রাজ্য সরকার কিছু না জানালে কেন্দ্র ধরে নেবে যে এই তিন আইপিএস-এর ডেপুটেশনে যোগ দিতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু, এই চিঠি পাওয়ার পরই রাজ্য সরকার প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে তড়িঘড়ি এভাবে ডেপুটেশনে ডেকে পাঠানো হচ্ছে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে রাজ্য সরকার। 

 

আরও পড়ুন, 'রাজনৈতিক হত্যা বেড়েই চলেছে-সংবিধানের উল্টো পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার', তোপ রাজ্যপালের

 

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় আইপিএস রাজীব কুমারকে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সরে গিয়ে দিল্লিকে রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার তিন আইপিএস-এর ডেপুটেশনে নির্দেশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ফলে রাজীব কুমারের ঘটনার সঙ্গে এর বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেই দাবি করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন, রাতে ঘুম ভাল হয়েছে, কেটে গিয়েছে আচ্ছন্নভাব, বিপদ মুক্ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

 

১৯৫৪ সালের আইপিএস ক্যাডার বিধি বলছে, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য কোনও বিবাদে জড়ালে তাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সন্দেহ নেই ভোটের আগে কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হল। তিন আইপিএস-এর ডেপুটশন বিতর্ক যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।