উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূল বলতে লোকে বুঝত অমল আচার্যকেবুধবার তিনিই হাতে নিলেন বিজেপির পতাকাসেইসঙ্গে বড় ভাঙন ধরল জেলা সংগঠনেওভোটের ১৫ দিন আগে অনেকটা শক্তি বাড়ালো গেরুয়া শিবির 

উত্তর দিনাজপুরে ভোটগ্রহণ হবে ষষ্ঠ দফায়, ২২ এপ্রিল। তার ঠিক ১৫ দিন আগে বড় ধাক্কা খেল জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিলেন ইটাহারের বিদায়ী বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অমল আচার্য। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এই নেতার গেরুয়া শিবিরে যোগদানটা প্রত্যাশিতই ছিল, তবে জেলার এই দাপুটে নেতা সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন তৃণমূলের অসংখ্য স্থানীয় নেতা-কর্মীকে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এতদিন, উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস মানেই লোকে বুঝত অমল আচার্যকে। বুধবার, তিনিই ইটাহারে, রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন। প্রাক্তন জেলা সভাপতির এই দলবদলে দলে কোনও প্রভাব পড়বে না, বলেই দাবি করেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, দলত্যাগী জেলা চেয়ারম্যান অমল আচার্যের বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট আকারে পাঠানো হবে।

উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল

কানাইয়ালাল আগরওয়াল, দলে কোনও প্রভাব পড়বে না, বলে দাবি করলেও, অমল আচার্যের যোগদানে এদিন বড় ভাঙন ধরেছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে। তাঁর সঙ্গেই এদিন বিজেপিতে যোগ দেন ইটাহারের ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি-সহ বহু তৃণমূল নেতা কর্মী। এতে করে ভোটের ঠিক মুখে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল যতটাই দুর্বল হল, ততটাই শক্তি বাড়ালো গেরুয়া শিবির, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় স্তরে সংগঠনের জোরের উপরই বুথ ম্যানেজমেন্টের বিষয়টা নির্ভর করে।

Scroll to load tweet…

গত দুবার, ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন অমল আচার্য। ২০২১-এ অবশ্য তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বদলে জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মুশাররফ হোসেনকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করার পর থেকেই দলের কাজে সেভাবে ছিলেন না, ইটাহারের এই 'দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা'। আর বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিট না পাওয়ায় পর, দলের সঙ্গে যোগাযোগ একপ্রকার ছিন্ন করে দিয়েছিলেন অমল আচার্য। তারপর তাঁর বিজেপি-তে যোগ দেওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।

"

আরও পড়ুন - কখনও ইমাম ভাতা, কখনও ক্লাবকে অনুদান - জনগণের টাকাতেই কি ভোট কিনছেন মমতা

আরও পড়ুন - বঙ্গের কোন কোন কেন্দ্রে সহজে জিতবে বিজেপি, কোথায় লড়াই কঠিন - কী বলছে দলের গোপন বিশ্লেষণ

আরও পড়ুন - বাদ 'জয় শ্রীরাম', ভরসা নিজের কাজ - শুভেন্দুর থেকেও কঠিন পরীক্ষায় এবার রাজীব, দেখুন

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই পুরোনো দলের বিরুদ্ধে একপ্রকার হুঙ্কার ছাড়েন তিনি। অমল আচার্য বলেন, 'তিলে তিলে গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস দল তৈরি করেছিলাম। কথা দিচ্ছি এই জেলা থেকে এই বেইমান, গদ্দার, কাটমানির দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেব। আজকের এই যোগদান সভায় হাজার হাজার মানুষের আগমনই বলে দিচ্ছে ইটাহার শুধু নয় গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই পদ্মফুলের চাষ হবে।' তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে বেইমানি করেছে বলে অভিযোগ করেন অমল। পুরোনো দলকে 'কর্পোরেটের দল', 'পিকে টিমের দল'ও বলেন সদ্য দলত্যাগী এই নেতা।

YouTube video player