অরূপ রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী  দলের শক্তিশালী দক্ষিণ কলকাতা লবির অন্যতম ব্যক্তি  তিনি ২০০৬ সাল থেকে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে জিতে আসছেন  চতুর্থবারও টালিগঞ্জ জয়ের দিকে তাঁকিয়ে অরূপ বিশ্বাস 

তাপস দাশঃ-স্টুডিওপাড়া যে তাঁর কথায় ওঠবোস করে, সে কথা মানতে চান না প্রকাশ্যে। এদিকে তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনীতির লোকজন। সেই ২০১৫ সালে রূপা গাঙ্গুলি মুখ খুলেছিলেন অরূপ-স্বরূপের বিরুদ্ধে। আর এই সেদিনই মিছিল করল বিজেপি সেই টালিগঞ্জেই। এবারও টার্গেট সেই অরূপ-স্বরূপ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন, নাড্ডা খেলেন ভ্য়ানচালকের বাড়িতে ভাত, দিদির গড়ে 'দুয়ারে দুয়ারে' শাহ-র কাছে এল আর্শীবাদের হাত

অরূপ রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী। এবং দলের শক্তিশালী দক্ষিণ কলকাতা লবির অন্যতম ব্যক্তি। তিনি ২০০৬ সাল থেকে টালিগঞ্জ কেন্দ্রে জিতে আসছেন। শেষবারের ভোটে, ২০১৬ সালে তিনি হারিয়েছিলেন সিপিএমের ফায়ারব্র্যান্ড নেত্রী মধুজা সেনরায়কে। অরূপের প্রভাব সিনেমহলে অবিসংবাদী। বলা হয়, বাংলা সিনেমার নায়কনায়িকা কে হবেন, কোন ছবিতে কে অভিনয় করবেন, এ সবই স্থির হয় তাঁর দ্বারা। টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ফোরাম চলে তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের কথায়। এ নিয়ে মাঝেমাঝেই মুখ খুলেছেন অনেকে। আবার উল্টোদিকে, করোনাকালীন লকডাউনের সময়ে অরূপের ভূমিকার প্রশংসা শোনা যায় সে বিধানসভা এলাকায় গেলেই। বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছনো থেকে অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সব ব্যাপারেই তিনি অগ্রণী ভূমিকা যে রেখেছিলেন, সে নিয়ে দ্বিমত নেই অনেকেরই। 

আরও পড়ুন, 'আমি CRPF-দের সম্মান করি', কমিশনের নোটিশ-শাহ-র তোপের পর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মমতা

২০২১ সালের ভোটে তাঁর মূল লড়াই বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে। আসানসোলোর সাংসদকে এই কেন্দ্র থেকে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। আর অরূপের সমর্থনে এই কেন্দ্রে রোড শো করছেন জয়া বচ্চন। অরূপের বাস নিউআলিপুরে। তিনি নিউ আলিপুর কলেজেরই বাণিজ্যে স্নাতক। তাঁর পেশা রাজনীতি ও সমাজসেবা। তেমনটাই তিনি জানিয়েছেন তাঁর হলফনামায়। জানিয়েছেন, তাঁর কোনও গাড়ি নেই, কৃষিজমি নেই। তবে একইসঙ্গে জানিয়েছেন গত বছর তাঁর রোজগার ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি। ব্যাঙ্কে রয়েছে সাড়ে ৬৫ লক্ষেরও বেশি টাকা। ৬২ লক্ষ টাকার জীবনবিমা রয়েছে তাঁর, যার প্রিমিয়ামই দিতে হয় বছরে ৬৪ হাজার টাকার বেশি। ৬ লক্ষ টাকার মত দামের সোনা রয়েছে তাঁর। নিউ আলিপুরে তাঁর বসতবাড়িটির দাম সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা। অরূপের দাবি, তিনি এই এলাকাকে হাতের তালুর মত চেনেন। পুরনো কলোনি থেকে আজকের অভিজাত আবাসন, সবই তাঁর চোখের সামনে গড়ে ওঠা। জেতা-হারা নিয়ে তিনি কোনও দাবি দাওয়া করছেন না, বলছেন ২ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। ফলের জন্য সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, তবে ললাটলিখন প্রস্তুত হয়ে যাবে ১০ এপ্রিলেই।