পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে আবেদন করেও অ্যাম্বুল্য়ান্স মেলেনি। বিনা চিকিৎসায় প্রাণ গেল থ্যালাসেমিয়া রোগীর। করোনা আতঙ্কের মাশুল দিল শিশু। ঘটনা প্রতিবাদে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অমানবিকতা সাক্ষী থাকল হুগলির তারকেশ্বর।

আরও পড়ুুন:করোনা সংক্রমণে মুম্বই যোগ, বীরভূমে সংক্রমিত আরও তিনজন

তারকেশ্বরের বালিগোড়ি- ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় থাকেন পলাশ ভূমিজ। তাঁর মেয়ে বয়স মোটে তিন বছর। জন্ম থেকে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত সে। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রক্ত দেওয়ার জন্য শিশুটিকে নিয়ে যেতে হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। গত সপ্তাহ ধরেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। কিন্তু লকডাউনের বাজারে অ্যাম্বুল্যান্স পাবেন কোথায়! নিরুপায় হয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের দ্বারস্থ হন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু করোনার অজুহাতে তিনি অ্যাম্বুল্যান্স দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। 

শিশুটির শারীরিক অবস্থা তখন রীতিমতো সংকটজনক। বুধবার অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য় ফোনে পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তার বাবা। কিন্তু এবার তিনি আর ফোনই ধরেননি বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকেদের দাবি, শেষপর্যন্ত নিজেরা যখন অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেন, তখন প্রধান চালককে সাফ জানিয়ে দেন, অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে যাওয়া যাবে না! কী আর করবেন! হাতে-পায়ে ধরে এক ব্যক্তির গাড়িতে চেপেই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের পরিবারের লোকেরা। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: লকডাউন 'আলগা হতেই' বাড়ছে সংক্রামক এলাকা,কলকাতায় ৩০০ ছাড়াল কনটেইনমেন্ট জোন

আরও পড়ুন: হাওড়া যোগে ছড়াল সংক্রমণ, ফের করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলল মেদিনীপুরে

জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর জ্ঞান হারায় শিশুটি। তড়িঘড়ি গাড়ি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে আসা হয় তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই পঞ্চায়েতের অফিসের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কী বলছেন অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান? তাঁর সাফাই, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের শিশুটির পরিবারকে আগে বেশ কয়েকবার অ্যাম্বুল্যান্স  দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার কিছুই জানানো হয়নি।