ভোটকেন্দ্রের সামনেই গাছ ভেঙে পড়ে চাপা পড়লেন বিজেপি কর্মী । আর তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে এলেন তৃণমূল কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ি বিধানসভা এলাকায়। জখম যুবকের নাম জিকো চট্টরাজ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের সামনেই গাছ ভেঙে পড়ে চাপা পড়লেন বিজেপি কর্মী । আর তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে এলেন তৃণমূল কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ি বিধানসভা এলাকায়। জখম যুবকের নাম জিকো চট্টরাজ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে ওই যুবক-সহ অন্য বিজেপি কর্মীরা সিউড়ির বোবা স্কুলের ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর বুথের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। স্কুলের ভেতরে কৃষ্ণচূড়া গাছটির একাংশ ভেঙে পড়ে রাস্তার উপর। ছিঁড়ে যায় বৈদ্যুতিক তারও। চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন জিকো। তার দাঁত ভেঙে যায়, মাথায় ও কোমরেও আঘাত লাগে।

তড়িঘড়ি অন্যান্য বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এই দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ভোট গ্রহণ। গাছটি পড়ে দুপুর পর্যন্ত স্কুলের সামনের রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এবারও রাজ্যে ভোটে প্রাণহানি এড়ানো গেল না। তবে ভোটে হিংসা, অশান্তি বা সন্ত্রাসের কারণে নয়, আবহাওয়ার কারণে প্রাণ হারালেন অন্তত চার জন। চার জেলায় ভোট দিতে গিয়ে প্রবল গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদা ও বীরভূমে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। পটাশপুরে নৃপেন্দ্র দাস, কেশপুরে ইসরাতন বিবি, মালতীপুরে প্রমিলা বাগদি এবং সিউড়িতে অসীম রায় নামে চার ভোটার প্রাণ হারিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। দুই মেদিনীপুর, বীরভূম ও মালদায় প্রবল তাপমাত্রা ও বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভোট দিতে গিয়ে চার জনের প্রাণ গেল

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের বামনবাড় জুনিয়র হাইস্কুলে ২৩৪ নম্বর বুথে সকালে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সি নৃপেন্দ্র দাস। আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এই ভোটার সংজ্ঞা হারান। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সীমা গেরিয়া অঞ্চলে ভোট দিয়ে বাইরে আসার পর মৃত্যু হয় ইসরাতন বিবি নামে এক মহিলার। তাঁর স্বামী শেখ নবাবজান আলির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এই কারণে উদ্বিগ্ন ছিলেন ইসরাতন। এদিন একাই ভোট দিতে যান এই মহিলা। তিনি ভোট দেওয়ার পরেই অসুস্থ বোধ করেন। এরপর তাঁর মৃত্যু হয়।

মালদা জেলার মালতীপুরে এদিন সকাল ১১টা নাগাদ ভোট দিতে গিয়ে বুথের মধ্যেই মাথা ঘুরে পড়ে যান প্রমিলা বাগদি নামে এক মহিলা। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁকে বুথ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। বীরভূমের সিউড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট দিতে যাওয়ার পথে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ডাঙালপাড়ার বাসিন্দা অসীম রায়ের। তিনিও প্রাণ হারান।