Abhishek Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের গণনার সময় কারচুপি হয়েছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার সময় কারচুপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। একটি এক্স পোস্টে অভিষেক ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এই ঘটনায় "নীরব দর্শক" হয়ে ছিল।

অভিষেক বার্তা
ভোটে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় জানান, দল এই বিষয়টিকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ জানাবে। তিনি লিখেছেন, "তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের প্রত্যেক সৈনিককে আমি আমার হৃদয় থেকে ধন্যবাদ জানাই তাঁদের সাহস, অবিচল লড়াই এবং ন্যায়বিচারের জন্য অক্লান্ত লড়াইয়ের জন্য। অত্যন্ত কঠিন এবং আপোসকামিতার এই নির্বাচনেও আপনারা আশা ছাড়েননি। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, আর গণনা প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ফলাফলের পর, কেন্দ্রের বারবার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাংলা ভয়াবহ ভোট-পরবর্তী হিংসার সাক্ষী হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল, যখন আমাদের কর্মী, অফিস এবং বাড়িতে হামলা ও আগুন লাগানো হয়েছে।"
অভিষেক আরও যোগ করেন, "এই সংগ্রামে আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। গত কয়েকদিন ধরে বাংলা অনেক ভুগেছে, এবং এই ধরনের দৃশ্য আমাদের রাজ্যের ভাবমূর্তির পরিপন্থী।" অভিষেক অভিযোগ করেন যে, অনেক কেন্দ্রেই তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের গণনা কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
লড়াইয়ের বার্তা
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "কিন্তু এই লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমরা প্রতিটি বেআইনি কাজ, কারচুপি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে আমাদের হাতে থাকা সমস্ত সাংবিধানিক ও আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানাব। মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। ১০০টিরও বেশি আসনে আমাদের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, গুরুতর অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে এবং জনগণের রায়কে খর্ব করা হয়েছে। সত্যকে চিরকাল চাপা দিয়ে রাখা যায় না, এবং বাংলার মানুষের সাথে হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে আওয়াজ তুলব।"
এক্স পোস্টে তিনি আরও লেখেন, "বাংলার মানুষ জানে কারা তাদের পাশে সব বিপদে দাঁড়িয়েছে, এবং আমাদের ধৈর্য, একতা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে তা চালিয়ে যেতে হবে। সত্যকে চিরকাল দমন করা যায় না। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব। ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মাঠে থাকুন। সাহস, শৃঙ্খলা এবং ইতিবাচকতার সাথে মানুষের সেবা চালিয়ে যান। গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা ও সংকল্প নিয়ে আমাদের লড়াই চলবে।"
নির্বাচনের ফলাফল
নির্বাচনের ফলাফলের পর, বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পাওয়ায় তাদের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।


