বাঁকুড়ার ঋতাভরী নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সাংবাদিক অনুলেখা কর। তাঁরই হাত ধরে ফাঁস হল ছাতার মত যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমের চিকিৎসার নামের টাকার খেলার চক্রান্ত।

দুদিন ধরে চিকিৎসার নামে কার্যত ছেলেখেলা করে রোগীকে প্রায় মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল নার্সিংহোম। এমনই ঘটনা ঘটেছে বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়ার ঋতাভরী নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সাংবাদিক অনুলেখা কর। তাঁরই হাত ধরে ফাঁস হল ছাতার মত যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমের চিকিৎসার নামের টাকার খেলার চক্রান্ত।

গত ১৯শে এপ্রিল স্ট্রোক হয় এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সাংবাদিক অনুলেখা করের বাবা অশোক কুমার করের। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বাঁকুড়ার ঋতাভরী নার্সিংহোমে। পরিবারের অভিযোগ প্রথম থেকেই রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছিল তাঁদের। বারবার সিটি স্ক্যান করার কথা বলা হলেও, চিকিৎসক এস কে পাল ও হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট তাতে কর্ণপাত করেননি। উল্টে বলা হয় রোগীর সিটিস্ক্যান নাকি তখন করা যাবে না।

দুদিন পরে অর্থাৎ ২১শে এপ্রিল যখন রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন, সিটি স্ক্যান করার দরকার ছিল, ও তা নাকি তখনই করা যেত। এরপরেই রোগীকে আর সেখানে রাখতে চায়নি অনুলেখার পরিবার। তাঁরা রোগীকে স্থানান্তরিত করতে চান। সেখানেও শুরু হয় বাসপাতালের নাটক। নিজেদের দোষ ঢেকে তাঁরা রোগীকে কিছুতেই ছাড়তে রাজী হয়নি। এতে রোগীর পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, এই কথা বলে বারবার ভয় দেখানো হয় পরিবারকে বলে অভিযোগ।

পরে পরিবারের চাপে রোগীকে ছাড়তে বাধ্য হন তাঁরা। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক অনুলেখা করের পরিবার। কেন এতটা সময় নষ্ট করা হল। কেন আগেই রোগীকে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা দিতে অপারগ হল নার্সিংহোম। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো ৭২ বছর বয়েসী অশোক করের শারীরিক পরিস্থিতি এত জটিল হয়ে উঠত না। কেন এভাবে চিকিৎসার নামে বিল বাড়ানোয় খেলায় সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এই ধরণের নার্সিংহোমগুলি!

এই তথ্য সব তুলে ধরেন সাংবাদিক অনুলেখা কর। ফেসবুক লাইভে তিনি বারবার বলতে থাকেন, "দয়া করে কেউ বাঁকুড়ার ঋতাভরী নার্সিংহোমে চিকিৎসার জন্য আসবেন না।" দেখুন সেই ভিডিও।