বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে কলকাতায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলেন কংগ্রেস নেতা মানস সরকার। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করে শাস্ত্রী মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারেন।

কংগ্রেস নেতার অভিযোগ দায়ের

কংগ্রেস নেতা মানস সরকার কলকাতার ভবানীপুর থানায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বাঙালির পরিচয়, খাদ্যাভ্যাস এবং দুর্গাপুজো নিয়ে মন্তব্য করে শাস্ত্রী মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন এবং এর ফলে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।

মঙ্গলবার মানস সরকার সংবাদ সংস্থা ANI-কে বলেন, "উনি বাঙালিদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন। আমাদের ভণ্ড বলেছেন। এর মানে হল, আমরা ধর্মের নামে যা খুশি তাই করি। উনি আমাদের শেখাচ্ছেন কী খাওয়া উচিত আর কী উচিত নয়। আমরা কেন আমিষ খাই, কেন মাছ-মাংস-চিকেন খাই, সেই প্রশ্ন তুলছেন। আমরা কী খাব, সেটা কি উনি ঠিক করে দেবেন? আমি এখানকার বিজেপি নেতাদেরও জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি ওঁর সঙ্গে একমত?"

ক্ষমা ও পদক্ষেপের দাবি

কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার এবং তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, "আরএসএস ওঁকে শিখিয়ে-পড়িয়ে এখানে এনেছে। উনি বাঙালিদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি দেখবে। যদি তারা কিছু না করে, তাহলে আমাদের নিজেদের পথেই এগোতে হবে। উনি যদি ক্ষমা না চান এবং আইনের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমি যেমনটা বলেছি, যা করার দরকার আমরা তাই করব। এমনও হতে পারে যে আমরা ওঁকে বাংলায় ঢুকতেই দেব না।"

দুর্গাপুজোর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাবার না খাওয়ার জন্য শাস্ত্রীর আহ্বানে রাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন যে, মাছ-মাংস খাওয়া বাঙালি সংস্কৃতিরই একটি অংশ। শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, "আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। কোন সাধু কী বললেন বা কোন মৌলবী কী বললেন, তাতে আমাদের কী আসে যায়? আমি জানি আমাদের দলের কর্মীরা খুশি। এটা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের রীতিনীতির অংশ। দুর্গাপুজো আসছে, আমরা বাঙালিরা অষ্টমীতে লুচি খাই, আবার নবমীতে কচি পাঁঠার মাংসও খাই। আমরা যা খাই, তাই খাই।"

একই সুরে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, “...উনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি এতে একমত হন, তবে তা অনুসরণ করতে পারেন। দেশের বহু মানুষ নিরামিষাশী, আবার এখানকার অনেকেই ঐতিহ্যগতভাবে আমিষ খান। প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ আছে... প্রত্যেকেই নিজের পছন্দ অনুসরণ করার জন্য স্বাধীন...”