Bankura Police Death News: বাঁকুড়ায় রেললাইনের ধার থেকে পুলিশ আধিকারিকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (ডিআইবি)-এর ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। ঠিক কী কারণে মৃত্যু ঘটেছে সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।
Bankura Police Death News: বাঁকুড়া শহরে রেললাইনের ধার থেকে রাজ্য পুলিশের এক কর্মরত ইন্সপেক্টরের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কেঠারডাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই পুলিশ আধিকারিকের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম জয়ন্ত পাল। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পুলিশ মহল থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ন্ত পাল বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (ডিআইবি)-এর ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আরণ্যক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিশ। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। একজন কর্মরত পুলিশ আধিকারিকের এভাবে রেললাইনের ধারে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একজন কর্মরত পুলিশ আধিকারিকের এমন আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বাঁকুড়া জেলাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষ পাড়া পেট্রল পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত। সেই সময় তিনি হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। জয়ন্তের বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল। ঘটনাস্থলে একটি গাড়ি পাওয়া যায়। ওই গাড়িটিকে আটক করা হয়েছিল। ঘটনার সময় ওই আধিকারিকের সঙ্গে এক মহিলা ছিলেন। অকুস্থলে ওই যুবতীর উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল রহস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, যুবতীর নাম-পরিচয় জানতে পারেন তদন্তকারীরা। যুবতী হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল জয়ন্তের। এলাকার অনেকে দাবি করেন, জয়ন্ত এবং তাঁর সঙ্গিনীকে প্রায়ই মঠের উল্টো দিকে একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে আসতে দেখা যেত। অন্য দিকে, যুবতীর মায়ের দাবি ছিল, তাঁর মেয়ে জয়ন্তকে চেনেন না। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন ওই যুবতী। আরও তিন জন ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
পরে জয়ন্তকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম নির্দেশিকা জারি করে জয়ন্তকে সাসপেন্ড করার কথা জানিয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, থানা থেকে বেরোলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাওয়াই নিয়ম। জয়ন্ত সেই সময় তা করেননি। কাউকে কিছু না-জানিয়েই কর্তব্যরত অবস্থায় চণ্ডীতলা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ভিন্জেলায়। বর্তমানে বাঁকুড়ায় কর্মরত ছিলেন তিনি।






