রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এবার কলকাতা ও তার আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, নিউটাউন ও বাইপাস সংযোগকারী 'বিশ্ব বাংলা সরণি'-র নতুন নাম হতে চলেছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের নামে।

রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এবার কলকাতা ও তার আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, নিউটাউন ও বাইপাস সংযোগকারী 'বিশ্ব বাংলা সরণি'-র নতুন নাম হতে চলেছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের নামে । এর পাশাপাশি পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং-সহ শহরের বেশ কিছু ব্যস্ত রাস্তার নামও বদলে ফেলার প্রস্তুতি চলছে।

বিশ্ব বাংলা সরণি হল কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার একটি ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, যা বিমানবন্দর থেকে গড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কইখালি, হলদিরাম, নিউ টাউন ও ইএম বাইপাস হয়ে গড়িয়া কামালগাজিতে শেষ হয়েছে। এটি নিউ টাউন ও আইটি সেক্টরের সঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন অংশের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। রাজ্য সরকারের এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন, "বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত । মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক । তাঁর নামে এই প্রধান রাস্তার নামকরণ হলে রাজ্যবাসী ও তাঁর অনুগামীদের দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধাকে সম্মান জানানো হবে।"

তবে, শুধু বিশ্ব বাংলা সরণিই নয়, কলকাতা পুরনিগম ও নগরোন্নয়ন দফতর শহরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের নাম বদল নিয়ে প্রস্তাব করেছে। তার মধ্যে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট অন্যতম। নগরোন্নয়ন দফতরের এক শীর্ষ কর্তা জানান, শহরের বহু পুরনো এলাকার মোড় ও রাস্তার নামকরণে স্থানীয় ইতিহাসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকটি নাম ইতিমধ্যেই ঠিক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে।

এর আগে পার্ক সার্কাস এলাকার সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড। কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “কলকাতায় কোনও মুঘল, পাঠান, অত্যাচারী ব্রিটিশের নামে নামকরণ থাকবে না। সিস্টার নিবেদিতা ছাড়া কোনও বিদেশির নাম থাকবে না। এপিজে আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্ত থাকলে তথ্য দিন, মর্যাদা দেবে রাজ্য সরকার।" নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটিও গড়েছে রাজ্য সরকার। সেই কমিটির মাথায় রয়েছেন কার্তিক মহারাজ। সেই কমিটির সুপারিশ করা নাম পৌঁছে যাবে সরকারের কাছে। সরকারি অনুমোদনের পরেই ধাপে ধাপে বদলে ফেলা হবে শহরের বেশ কয়েকটি রাস্তার নাম। সূত্রের খবর, পুজোর আগেই বিশ্ববাংলা সরণিতে বসতে পারে নতুন নামের ফলক।