কাজ সেরে ফেরার পথে আক্রান্ত পঞ্চায়েত কর্মী রাস্তা আটকে 'মারধর-প্রাণনাশের হুমকি' অভিযোগের তির বিজেপির দিকে দলের নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ

আশিস মণ্ডল, বীরভূম:  'বাংলা আবাস যোজনা'র বাড়ি তদারকি করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন পঞ্চায়েতের এক অস্থায়ী কর্মী। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। বুধবার ঘটনাটি ঘটে মল্লারপুর থানার দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের টাওসিয়া গ্রামে। এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: দিনমজুরের ছেলেকে'অপহরণ' করে ৭ লক্ষ মুক্তিপণ দাবি, পঞ্চায়েত সদস্যের শিশু অপহরণে রহস্য

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত পঞ্চায়েত কর্মীর নাম অভিজিৎ গড়াই। বুধবার সকালে স্থানীয় দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েত থেকে টাওসিয়া গ্রামে বাংলা আবাস যোজনার বাড়ির জিও ট্যাগ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে এলাকার বিজেপি নেতা সুশান্ত দে’র নেতৃত্বে কিছু কর্মী সমর্থক পথ আটকে মারধর করে বলে অভিযোগ। গালিগালাজ করা হয় অশ্রাব্য ভাষায়। আক্রান্ত পঞ্চায়েত কর্মী বলেন, 'বিজেপি লোকেরা আমাকে ঘিরে ধরে গ্রামের আরও কিছু বাড়ির জিও ট্যাগ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু নির্দেশ না থাকায় আমি তাতে অসমর্থ হওয়ায় আমাকে লাথি, ঘুসি, চড় থাপ্পড় মারতে শুরু করে তারা। এমনকী, শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।' চিৎকার শুনে আশেপাশে লোকেরা ছুটে এলে অভিযুক্তেরা পালিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।'

আরও পড়ুন: বচসার জেরে প্রকাশ্য় রাস্তায় গাড়ি চালককে 'কুপিয়ে খুন', মগরাহাটে উত্তেজনা

কী বলছেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সুশান্ত দে? তাঁর সাফাই, 'মারধরের উনি কোনও প্রমাণ দেখাতে পারবেন না। ঘটনার সময়ে আমি টাওসিয়া গ্রামে ছিলামই না। স্থানীয় কিছু তৃণমূল সমর্থক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করছে।' পুলিশ অবশ্য গেরুয়াশিবিরের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। পঞ্চায়েত কর্মীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এদিকে আবার দলের নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে মল্লারপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বীরভূমে দলের সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায়েলর হুঁশিয়ারি, ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ধৃতকে জামিন না দেওয়া হয়, তাহলে মল্লারপুর অচল করে দেওয়া হবে।