মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপের থাকার সময়েই মুকুল রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপের থাকার সময়েই মুকুল রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দিলীপ জানিয়েছেন, বিজেপিতে থাকার সময় মুকুল রায়কে সম্মান জানানো হয়েছিল। রবিবার রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মুকুল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বযস হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলে শুভ্রাংশু বাবার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় করতে শুরু করেছেন অসংখ্য মুকুল অনুরাগী।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মুকুল রায় তৃণমূলে এক সময় সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই যদি কোনও নেতার কথা বলা হত, সেটা ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১১ সালে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটানোর পর দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দেশের রেল মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। যদিও কিছুদিনের জন্য তিনি বিজেপিতেও যোগ দেন। তিনি ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিজেপিতে যোগদান করেন। বিজেপি সংগঠন মজবুত করতে তাঁকেও কৃতিত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়, যখন বিজেপি বাংলায় ১৮টি আসন জিতেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু কিছুদিন পরেই তিনি তৃণমূলে ফিরে যান। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দেয়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।

Scroll to load tweet…

গত দুই বছর ধরে মুকুল রায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ক্রমেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল। তিনি পরিচিত মুখগুলি চিনতে পারার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং রাইলস টিউবের মাধ্যমে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল তাঁকে। রাত দেড়টা নাগাদ তাঁর হার্ট অ্য়াটাক হয়। তাতেই প্রয়াত হন।

মুকুলের প্রয়াণে দিলীপ ঘোষ বলেন, "তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তিনি যখন বিজেপিতে এসেছিলেন, তখন তাঁকে অনেক সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে, তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে যান। গত ২-৩ বছর ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আমি প্রার্থনা করি তাঁর আত্মা শান্তি পাক।"