বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই একে একে প্রায় সমস্ত প্রার্থীই প্রচারে নেমে পড়েছেন। ভোট আসলেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়ান। এবার বাংলার দু দফায় ভোট হবে। তাই সময় বেশি পাওয়া যাবে সব কেন্দ্রের প্রচারের জন্য।

বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই একে একে প্রায় সমস্ত প্রার্থীই প্রচারে নেমে পড়েছেন। ভোট আসলেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়ান। এবার বাংলার দু দফায় ভোট হবে। তাই সময় বেশি পাওয়া যাবে সব কেন্দ্রের প্রচারের জন্য। জানা যাচ্ছে, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রচারে নামছেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহ থেকেই জেলায় জেলায় ভোট প্রচার শুরু করতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ইদ মিটলেই জেলায় জেলায় গিয়ে প্রার্থীর সমর্থনে সুর সপ্তমে তুলবেন অগ্নিকন্যা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দলের তরফ থেকে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের সূচি ঘোষণা করা হয়নি। সূত্রের খবর, শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের চূড়ান্ত সফরসূচি। প্রতিবারের মতো এবারও ভোট প্রচার শুরুর জন্য তিনি উত্তরবঙ্গকেই বেছে নিতে পারেন। মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘোষণা হওয়া মাত্রই নিজ নিজ এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে ছোট ছোট পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণ সকলেই অপেক্ষা করছেন তাঁদের এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা কবে করবেন তার দিকেই।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের এই চূড়ান্ত সূচি নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে রূপরেখা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং তা খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হবে। যেহেতু প্রথম দফায় মূলত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই উত্তরবঙ্গ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা জেলা সফর শুরু হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে৷ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকেই তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন।

এদিকে, টিকিট না পেয়ে উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিদায়ী বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাই উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরুর আগে ক্ষুব্ধ নেতাদের মানভঞ্জনে নামেন খোদ মমতা। বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট অসন্তোষ নিরসনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও প্রবীণ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। দলীয় নেতাদের মতে, শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে বুধবার গভীর রাতে রাজগঞ্জ বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বর্তমান বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে বাদ দিয়ে ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণকে প্রার্থী করেছে শাসকদল। যা নিয়ে খগেশ্বর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে রায় ঘোষণা করেন যে, তিনি দলের হয়ে কাজ করবেন এবং স্বপ্না বর্মণকে পূর্ণ সমর্থন জানাবেন। তিনি আরও জানান যে, দলীয় নেত্রী তাঁকে সংগঠনে উপযুক্ত ভূমিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতেও অনুরূপ অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী তাজমূল হোসেন পুনরায় টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যে দলের সমালোচনা করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ওই আসনে মতিবুর রহমানকে প্রার্থী করেছে। এদিকে, মেখলিগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে বিজেপি তাদের প্রচার অভিযান জোরদার করেছে। পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার এবং তাঁর মেয়ের বিতর্কিত নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে—যে নিয়োগ পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছিল। পরেশ অধিকারী অবশ্য এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন।