উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে, জানালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে, 'বুলডোজার সংস্কৃতি'-র বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জির ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়গুলি নিয়ে উদাসীন ছিলেন।

রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে এবং পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছে। বুধবার মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ একথা জানিয়েছেন। পরিকাঠামোর উন্নতির জন্যও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘোষ বলেন, "আমরা উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কথা ভাবছি। পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং পরিকাঠামোর উন্নতি করা হবে। আগের সরকার যে কাজগুলো করেনি, আমাদের সেই সব অনেক কাজ করতে হবে।"

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মমতা ব্যানার্জিকে নিশানা ঘোষের

এর আগে মঙ্গলবার, দিলীপ ঘোষ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করেন। 'বুলডোজার সংস্কৃতি'র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দলের বিধায়কদের সঙ্গে মমতার বৈঠক প্রসঙ্গে ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এই বৈঠকগুলো করলে তা অর্থবহ হতো।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ঘোষ বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের স্বার্থ বা মানুষের দুর্দশার দিকে আগে নজর দেননি। তাঁর কথায়, "...আগে তো মুখ্যমন্ত্রী জানতেনই না বাংলায় কী হচ্ছে... এখন যে বৈঠকগুলো করছেন, সেগুলো যদি আগে করতেন এবং মানুষের কষ্ট বুঝতেন, তাহলে পরিস্থিতিটা অন্যরকম হতো।"

'বুলডোজার সংস্কৃতি'র বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিবাদ

উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের আমলে হকারদের জোর করে উচ্ছেদ এবং 'বুলডোজার সংস্কৃতি' শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর প্রতিবাদে আগামী ২১ মে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তারা।

দলীয় সূত্রে খবর, হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জের কাছে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। হকার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে দলের নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তৃণমূল জিতেছে ৮০টি আসনে।