ইউনেস্কোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালাল ইডি। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রায় সাড়ে ১৫ ঘন্টা পর রাত ১১টা নাগাদ প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি থেকে বের হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অধিকারিকরা। আজ সকাল ১০টায় তাঁকে ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছে। পাল্টা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ালি দিয়েছে ইন্দ্রনীল সেন।
জানা যাছে, পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ আছে তার ওপর। অভিযোগ ইন্দনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জু মাসে কাপ নামে এফআইআর দায়ের হয় বউবাজারের থানায়। মঙ্গলবার তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নামে। এদিন সকালে ইডি আধিকারিকরা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে বেশ কয়েক জায়গায় তল্লাশি করে। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি ছাড়াও ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর বাড়িতেও তল্লাশি করে পুলিশ। সঙ্গে তল্লাশি চলছে হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও। তেমনই সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও চলে তল্লাশি।
প্রসঙ্গত, ঘটনাটি ২০২১ সালের। সেই সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। তারপরই মাস আর্ট নামে সংগঠন তৈরি হয়। তারা নিজেদের ইউনেস্কোর অফিশিয়াল পার্টনার বলে দাবি করে দুর্গাপুজোর প্রচারে নামে। শুরু হয় পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি। চড়া দামে সেই পাস বিক্রি হয়েছিল। তবে, তা ছিল ভুয়ো। সেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে চড়া দামে এন্ট্রি পাস বা টিকিট বিক্রি করা হত। তাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে ইডি অভিযোগ। এর সঙ্গে মধুছন্দারও যোগ রয়েছে বলে মত কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের।
প্রতারণার শিকার হয়ে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরূপের মামলা দায়েক করেন জুন মাসে। যদিও সেসময় ইন্দ্রনীল সেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।


