Sukanta Majumdar News: বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। মঙ্গলবারই কুশমণ্ডি থেকে ২৫ জন বাংলাদেশীকে পাকড়াও করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরব হয়েছেন সুকান্ত।

Illegal Immigration: মঙ্গলবার ভোরবেলা দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে ২৫ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম জেলার রাজনীতি। বুধবার বালুরঘাটে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনুপ্রবেশের প্রশ্নে সরব হলেন বালুরঘাটের বিজেপি (BJP) সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকেরা এ দেশে থাকবেন। কিন্তু যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, তাঁদের আইন অনুযায়ী ভারত ছাড়তে হবে। দেশের নিরাপত্তা এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করা উচিত নয়। সীমান্ত অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা কীভাবে ঘটছে, কারা এর পিছনে রয়েছে এবং কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আটক ২৫ অনুপ্রবেশকারী

মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের মালিগাঁ গ্রাম পঞ্চায়েতের লোহাগঞ্জ পঞ্চনগর অঞ্চলের কানকিপাড়া কদমতলায় একসঙ্গে বেশ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরে বিএসএফ-এর (BSF) ৯১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা তাঁদের আটক করেন। বিভিন্ন সূত্রের খবর, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে এক ভারতীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তিরা আগে ভারতে কাজ করতেন। পরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকার কথাও জানা গিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, ভারতে আসার কারণ এবং সীমান্ত পারাপারের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। বিএসএফ ও পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনও দালালচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে। কুশমন্ডির এই ঘটনাকে সামনে রেখেই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা তুলে ধরেন সুকান্ত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর মতে, ধৃত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব ও সীমান্ত পারাপারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।

বিরোধীদের আক্রমণ সুকান্তর

এ দিন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়ম নিয়েও মুখ খোলেন সুকান্ত। তাঁর দাবি, কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে হলে লিখিত আবেদন করে নির্দিষ্ট সময় নিতে হয়। রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন তিনিও একাধিক বার সেই নিয়ম মেনে কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে সুকান্তর বক্তব্য, সরকারি মাদ্রাসাগুলিকে আলাদা করে না দেখে সাধারণ স্কুলের মতোই শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা উচিত। পাশাপাশি, আদালতের বিচারাধীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, তদন্ত হতে হবে আইন মেনে। অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয়।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।