ছেলে আইএএস নয় আগেই জানতে পেরেছিলেন দেবাঞ্জনের বাবা-মা ২০২০ সালে প্রথমবার পুলিশি জেরার মুখে পড়েছিলেন দেবাঞ্জন চাকরিতে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে দেবাঞ্জন ঠকিয়েছিলেন নিজের মামাকেও

যত দিন যচ্ছে ততই কসবার ভুয়ো টিকাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও পুলিশি জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন দেবাঞ্জন। আর তখনই নাকি তাঁর বাবা-মা জানতে পেরেছিলেন যে ছেলে আসলে আইএএস নয়। এমনকী, শুধু অপরিচিতদেরই নয়, দেবাঞ্জন ঠকিয়েছিলেন নিজের মামাকেও।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন- 'আরও দেবাঞ্জন লুকিয়ে বাংলায়', ভুয়ো ভ্যাকিসনকাণ্ডে বামেদের বিক্ষোভে উত্তাল পুরসভা চত্বর

২০২০ সালের মার্চ মাস। দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে ইলেক্ট্রনিক কমপ্লেস থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরিতে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ না থাকায় সেইবার ছাড় পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তখনই তাঁর বাবা-মা জানতে পেরেছিলেন যে ছেলে আইএএস নয়। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। 

রবিবার দেবাঞ্জনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে বেশকিছু নথি, ডেবিড কার্ড, পাসবুক পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গিয়েছে, প্রতারণা চক্র চালানোর জন্য বলিউড সিনেমা 'স্পেশাল ২৬'-এর কায়দায় লোকও নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। জেরার সময় তিনি জানিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে লোক নিয়োগ করা শুরু করেছিলেন। এই ঘটনায় দেবাঞ্জনের বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। কিন্তু, করোনা হওয়ায় আপাতত বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। 

আরও পড়ুন- হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অপসারণ চেয়ে চিঠি, মমতার সরকারকে নিশানা মালব্যর

তবে শুধু অপরিচিতদেরই নয়, নিজের পরিবারকেও ছাড় দেননি দেবাঞ্জন। ঠকিয়েছেন নিজের মামা সন্দীপ মান্নাকেও। পেশায় আঁকার শিক্ষক সন্দীপবাবুর বাড়ি ডায়মন্ডহারবারের গোপাল দাস পাড়ায়। ভাগ্নে যেহেতু 'আইএএস' তাই তার কাছে আঁকার একটি প্রদর্শনী করিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি। ভাগ্নেও মামাকে ফেরাননি। 

২০১৯-এর জুন মাসে আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে অভিনেতা বরুণ চন্দ, ওয়াসিম কাপুর, পিয়ালী চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। এর জন্য মামার থেকে বেশ কিছু টাকাও দাবি করেছিলেন দেবাঞ্জন। এরপর রাজ্যপালের দেওয়া সার্টিফিকেট ও রাজ্য সরকারের একটি মেমেন্টো তুলে দেন মামার হাতে। পরে সরকারিভাবে মাসে ১১ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, এক বছর সেই টাকা পাওয়ার পর আর ভাতা পাননি সন্দীপবাবু। তিনি বলেন, "আমাকে যা যা কাগজ দিয়েছে সব নকল। গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালায় প্রদর্শনীর জন্য কখনও ৩৫ আবার কখনও ৫৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। অনেক কষ্ট করে সেই টাকা জোগার করতে হয়েছিল।"

আরও পড়ুন- আগামী ৫দিন প্রবল বৃষ্টি হবে এই রাজ্যগুলিতে, জেনে নিন IMD-র পূর্বাভাস

ইতিমধ্যে ভুয়ো ভ্যাকসিন-কাণ্ডে দেবাঞ্জন ছাড়া আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারাও এই মুহূর্তে পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে।