ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস খালি করার নির্দেশ দিল দমকল বিভাগ। অভিযোগ, ওই দফতরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়মও মানা হয়নি। ফলে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভবনের ওই অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে দমকল। ৯, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণির মূল ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেকের অফিস রয়েছে।
ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস খালি করার নির্দেশ দিল দমকল বিভাগ। অভিযোগ, ওই দফতরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নিয়মও মানা হয়নি। ফলে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভবনের ওই অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে দমকল। ৯, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণির মূল ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেকের অফিস রয়েছে। ওই দুই তলার জন্য নিয়মিত ভাড়া দেওয়া হয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এবার অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগে ওই দুই তলা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভবনের বেসমেন্টের ক্ষেত্রেও। এ বিষয়ে ভবনের মালিককে চিঠি পাঠিয়েছে দমকল বিভাগ।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মালিকপক্ষ এবং ভাড়াটিয়াদের তলব করা হয়েছিল। ভাড়াটিয়ারা নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হলেও মালিকপক্ষ সেই তলবে সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলা এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর দমকলের দাবি, ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার মূল দায়িত্ব মালিকপক্ষের। পাশাপাশি, ভবনটির অগ্নি নিরাপত্তা শংসাপত্রের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ অগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছে। সেটি পুনর্নবীকরণের সুপারিশ করা হলেও তা করা হয়নি বলে জানিয়েছে দমকল।
এই পরিস্থিতিতে ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা এবং বেসমেন্টকে নিরাপদ নয় বলে উল্লেখ করে দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে স্থাপন ও প্রয়োজনীয় শংসাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই তলা ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। দমকলের এই নির্দেশিকার কপি পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুরসভা, শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সিইএসসি দফতরেও।
উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই অভিষেকের এই দফতরের বাইরে থাকা তৃণমূলের নামাঙ্কিত একটি হোর্ডিং খুলতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। পুরসভার দাবি ছিল, হোর্ডিংটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। সেই সময় অভিষেক ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে পুরকর্মীদের বচসা হয়। পরে পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় মামলা চলছে। হোর্ডিং খোলার পর সেখানে ফের তৃণমূলের নামাঙ্কিত ব্যানার টাঙানো হয় বলে অভিযোগ। এর কয়েক দিন পরই বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই দফতরে কয়েক জন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলকর্মীদের মারধরের ঘটনাতেও মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিষেক নিজেও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সরব হয়েছিলেন। এর পরেই দমকলের তরফে ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার নির্দেশ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।


