Abhishek Banerjee: ক্যামাক স্ট্রিট বিলবোর্ড-কাণ্ডে শেক্সপিয়র সরণি থানায় প্রায় ৫ ঘণ্টা জেরার পর মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থার অভিযোগ উড়িয়ে ১৩ তৃণমূল কর্মীর গ্রেফতার নিয়ে পাল্টা দাবি করলেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা অভিষেকের।

ক্যামাকস্ট্রিট কাণ্ডে মঙ্গলবার দুপুরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু থানা থেকে বেরিয়ে এসে রীতিমত সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ক্যামাকস্ট্রিক কাণ্ডে অতিক্রিয় ছিল পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়ে এসেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, 'ওঁদের যা ক্ষমতা আছে করুক।'

৫ ঘণ্টা শেক্সপিয়র সরণিতে অভিষেক

ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে তৃণমূল কংগ্রেসের বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিল কলকাতা পুলিশ ও পুরসভা। সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন অভিষেক। সেই অভিযোগেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাতেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় তাঁকে তলব করে। তাতেই মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিট নাগাদ থানায় হাজিরা দেন। সন্ধ্যায় থানা থেকে বেরহন। থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, 'একটা সাইন বোর্ড নামানোর জন্য কলকাতা পুলিশের ১০০০ কর্মী পাঠানো হয়েছে। গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার জন্য করা হয়েছে' । তারপরই অভিষেক বলেন, এক মাসে আগে যদি প্রশাসন তৎপর হতো তাহলে নিউমার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে এতগুলি মানুষের মৃত্যু হত না। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র এক মাস পরেই আলিপুরে ৪০০০ কন্ট্রোল ইউনিট পুড়ে গেল। তখন ফায়ার অডিট হয়নি। '

ক্যামাকস্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে মহিলা পুলিশ কর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। সেই বিষয়েও কথা বলেন অভিষেক। তিনি বলেন, তাদের ১৩ জন কর্মীকে অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। নোটিশ ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিষেকের দাবি এই বিষয়ে কিছু ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে দেখা হিয়েছে তাদের কর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমায় যারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তাদের দোষ দিচ্ছি না। তারা নিজের কাজ করছেন।'

বিজেপিকে আক্রমণ অভিষেকের

এর পরেই বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে বিজেপির এত ‘ভয়’ কিসের? তিনি দাবি করেন, ‘‘বিজেপি জানে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি।’’ তাঁর অভিযোগ, ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদদের ভাঙানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গ্রামসভা, অ্যাকাউন্ট, সমিতি এবং দলীয় কার্যালয় দখল বা ভাঙচুরের অভিযোগও তোলেন তিনি।

অভিষেকের হুঁশিয়ারি, মিথ্যা মামলায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জেলে ভরে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যদি ভাবে মিথ্যা মামলায় আমাদের জেলে ভরে তৃণমূলকে শেষ করবে, তা হলে ভুল করবে।’’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। সারদা-কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগের উল্লেখ করেন। অভিষেকের দাবি, ‘‘বাংলার কী দুর্ভাগ্য! মুখ্যমন্ত্রীকে টিভির পর্দায় ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে।’’ এরপর সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের করা অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

ক্যামাক স্ট্রিটের বিতর্কের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা অভিষেকের দফতরের বাইরে থাকা একটি বিলবোর্ড খুলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুরসভার দাবি ছিল, তৃণমূলের নাম দেওয়া ওই বিলবোর্ডটি অনুমোদনহীন এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। সেই কারণেই সেটি সরাতে গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা।

অভিযোগ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুর আধিকারিকেরা দফতরে ঢোকার সময় তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এরপরেই ধস্তাধস্তি ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগও ওঠে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।