সিকিমে খাদে যাত্রীবোঝাই ট্যাক্সি। প্রাণ গেল পাঁচ বাঙালি পর্যটকের। বরাতজোরে রক্ষা পেল শিশু।

সিকিমের নাথুলার কাছে যাত্রীবোঝাই ট্যাক্সি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক বাঙালি পরিবারের পাঁচ সদস্যের। সিকিম বেড়াতে যাওয়া দলটিকে ছিলেন শ্যামবাজারের তিনজন বাসিন্দা,, হুগলির হরিপালের তিন বাসিন্দা, হুগলির একজন ও স্থানীয় একজন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোমবার সকালে হরিপালের বাসিন্দা দিলীপ বসুর বাড়িতে সকাল হল মৃত্যুসংবাদের ফোনে। ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে ওপাশ থেকে এক কন্ঠস্বর জানান দিল, ওই পরিবারের সদস্য স্নেহাশিস বসু, তাঁর স্ত্রী কাকলি বসু, ছেলে সর্বজিৎ বসু পথ দুর্ঘটনায় চলে গিয়েছেন। প্রাণ গিয়েছে স্নেহাশিসবাবুর ভাগ্নে সন্দীপ কর ও তাঁর স্ত্রী সোমা করের। দিলীপবাবুই সন্দীপের বাড়িতে খবর দেন দুর্ঘটনার। সিকিমের সাত মাইলের কাছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা টিম উদ্ধারে নেমে দেখেন আশ্চর্যভাবে বেঁচে গিয়েছে সন্দীপ-সোমার খুদে সন্তান সূর্যাশিস কর। প্রাণে বেঁচেছেন মহুয়া পাত্র নামের দলের আরেকজন সদস্যও। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সন্দীপ করের বাবা আশিস কর। 

গত ২৬ এপ্রিল সিকিম রওনা হন স্নেহাশিস ও সন্দীপের পরিবার। সোমবার তাঁদের ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল কই!। সূত্রের খবর, কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই খাদে পড়ে যায় সন্দীপদের গাড়ি। শেষ মুহূর্তে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান সন্দীপদের গাড়ির চালক। বাকিরাও গাড়ি থেকে ছিটকে বেড়িয়ে গেলেও প্রথম শ্রেণির ছাত্র সৌরাশিস মায়ের কোলে আটকে ছিল। তাকে গ্যাংটকের এসটিএনএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শরীর সারলে সৌরাশিসকে সমস্তটা বুঝিয়ে বলার জন্যে সাহস সঞ্চয় করছেন আশিসবাবু।

প্রসঙ্গত ছাঙ্গু এলাকায় বিকেলের দিকে আবহাওয়া খামখেয়ালিপানা করে। এর পাল্লায় পড়ে আগেও প্রাণ গিয়েছে বহু পর্যটকের। সিকিম সরকার এসব দেখেশুনেই নিয়ম করেছে টুরিস্ট বোঝাই গাড়িগুলি যেন দুপুরের পরেই রওনা দেয়। তবু কেন দেরি করল স্নেহাশিসবাবুদের বাড়ি , কেন কোনও নিষেধাজ্ঞার বোর্ড নেই সিকিমের রাস্তায়, কেন নজরদারি এত শিথিল এই বিষয়ে? পাঁচটি তাজা প্রাণ আর নেই। প্রশ্নগুলি ঘুরছে সিকিমে। আর সব হারিয়ে সবেধন নীলমনি ছোট্ট শিশুটির দিকেই চেয়ে আছেন আশিসবাবু, দিলীপবাবুরা।