ভালো কাজের প্রলোভন এড়াতে পারেননি তিনি। এ রাজ্যের এক আদিবাসী গৃহবধূকে 'বিক্রি' করে দেওয়া হয়েছিল কাশ্মীরের নিষিদ্ধপল্লীতে। পুলিশের তৎপরতায় দীর্ঘ ছ'মাস পর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন তিনি। 

ঘটনাটি ঠিক কী? উত্তর চব্বিশ পরগনার হাড়োয়ার খাশবালান্দা এলাকায় বাড়ি ওই গৃহবধূর। রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার একটি বহুতলের পরিচারিকার কাজ করতেন তিনি। আর্থিক স্বচ্ছলতা হয়তো ছিল না, কিন্তু সংসার চলে যেত। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বহুতল কাজের সূত্রেই মাস ছয়েক আগে আজহার মোল্লা নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় ওই গৃহবধূর। ভিন রাজ্যে গেলে ভালো কাজ পাওয়া যাবে, বহুতলের পরিচারিকাকে প্রলোভন দেখায় আজহার। ওই গৃহবধূকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে, শেষপর্যন্ত ১ লক্ষ টাকায় তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয় কাশ্মীরের এক যৌনপল্লিতে। 

আরও পড়ুন: ক্লাসরুমে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে 'অশালীন আচরণ', প্রধানশিক্ষককে গাছে বেঁধে রাখল পড়ুয়ারাই

এদিকে ওই গৃহবধূ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর হাড়োয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে তেমন আমল দেয়নি বলে অভিযোগ। মেয়ের খোঁজ পেতে বসিরহাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই গৃহবধূর মা। তাতেই কাজ হয়। জানা গিয়েছে, ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই তৎপর হয়ে খোঁজখবর শুরু করেন এবং পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। এরপর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত আজহার মোল্লাকে। পুলিশি জেরায় অপরাধ স্বীকার করে আজহার। সে জানায়, ওই গৃহবধূকে কাশ্মীরের এক নিষিদ্ধপল্লিতে বিক্রি করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: রাতে খোলা সরকারি অফিস, বেআইনি কাজের অভিযোগ কেশপুরে

সেই সূত্র ধরেই হাড়োয়া থানার ওসি, তদন্তকারী আধিকারিক ও কয়েকজন পুলিশকর্মী দিল্লি হয়ে কাশ্মীরে যান। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় যৌনপল্লি থেকে সোমবার উদ্ধার করা হয় ওই বধূকে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আনা হয় হাড়োয়া থানায় ওই বধূকে আনা হয়। বাড়ি ফিরে গিয়েছেন তিনি।