Mukul Roy: বেঁচে থেকেও কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মুকুল বাবু মৃত্যুর আগে শেয় কয়েকটা দিন কেমন কেটেছে তাঁর?
এক সময়ের তাবড় রাজনীতিবিদ রাজনীতির কোনও কথা হলে ঠাওর করতে পারতেন না। ভুলে গিয়েছিলেন নিজের পলিটিক্যাল কেরিয়ারের সবকিছু। টিভিতে কোনও বড় খবর চললে ম্লান চোখেই তাকিয়ে থাকতেন টিভির দিকে। মৃত্যুর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এমন হয়ে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। চেনা কেউ এলে হাসতেন কখনও। কখনও আবার হাসতেন না, মোট কথা চিনতেই পারতেন না। এককালে তৃণমূল কংগ্রেসের চাণক্য হারিয়ে ফেলেছিলেন সমস্ত বোধ। নিজের ঘরেই কাটাতেন দিনের বেশিরভাগ সময়। ছেলের সঙ্গেও কথা বলতেন ইচ্ছে হলে, মাঝে মধ্যে তাও বলতেন না। খাবার এলে খাবার খেতেন। কোনও প্রশ্নেরই ঠিক মতো উত্তর দিতে পারতেন না তিনি।
“আপনি কে?” জিজ্ঞাসা করলে থতমত খেয়ে আনমনা হয়ে কী যেন ভাবতেন এককালের এই তাবড় রাজনীতিবিদ। নিজের জীবনের এই বিরাট রাজনৈতিক কেরিয়ারের বিন্দুমাত্রও মনে ছিল না তাঁর। ভুলে গিয়েছিলেন নিজের পরিচয়টাও। ভুলেগিয়েছিলেন কে মুকুল রায়? কে তৃণমূল? কে বিজেপি?
২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। এরপরেই ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আশাতীত ফল করে বিজেপি। অনেকেই এর সঙ্গে মুকুল যোগের কারণ হিসাবেই মনে করেন । মনে করেন বিজেপির এই সাফল্যের পিছনে অনেকটাই হাত মুকুলের। এরপরে ২০২১ সালে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। কিন্তু আর দলের হারানো জায়গা ফিরে পাননি তিনি। তাঁর আসন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বসানো হয় বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপরে স্ত্রী কৃষ্ণা রায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে তাঁর স্মৃতি। বেঁচে থেকেও কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মুকুল বাবু। স্ত্রীয়ের মৃত্যুর পরে এক সময়ের প্রকট বটগাছ কোথায় যেন তলিয়ে গেল নিজের মধ্যেই।

