পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডের নির্দেশনায় হাওড়ায় নিকাশি পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং হাওড়া স্টেশন-সহ সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে আজ পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন এবং হাওড়া পুরনিগমের (HMC) মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডের নির্দেশনায় হাওড়ায় নিকাশি পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং হাওড়া স্টেশন-সহ সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে আজ পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন এবং হাওড়া পুরনিগমের (HMC) মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী বিশাল কাপুর, হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার শ্রীমতী তেজস্বী রানা, শ্রী শৈলেশ, Sr. DEN/HQ & Line/HWH, হাওড়া পুরনিগমের পরামর্শদাতা শ্রী অজয় সিং, হাওড়া ডিভিশনের শাখা আধিকারিকরা, হাওড়া পুরনিগমের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা বিস্তারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে হাওড়া এবং সংলগ্ন এলাকায়, রেলওয়ে এলাকা-সহ, একটি সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর নিকাশি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, নিকাশি ক্ষমতা বৃদ্ধি, পাম্পিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অতিরিক্ত জল কার্যকরভাবে নিষ্কাশনের বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে সংলগ্ন পুরসভা এলাকা থেকে রেলওয়ে চত্বরে প্রবেশ করা জলের প্রবাহ, লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন নিকাশি সমস্যার বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে হাওড়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে, রেলওয়ে এলাকা-সহ, জলাবদ্ধতার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা এবং জলের প্রবাহের পথ নির্ধারণের জন্য রেলওয়ে ও রাজ্য/হাওড়া পুরনিগমের আধিকারিকরা যৌথভাবে বিস্তারিত পরিদর্শন করবেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মত হওয়া হয়েছে যে গোটা নিকাশি ব্যবস্থার প্রবাহপথ পদ্ধতিগতভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং সম্ভব হলে হুগলি নদীর দিকে এর চূড়ান্ত জল নির্গমনস্থল (outfall) পর্যন্ত তা অনুসরণ করা হবে। এর ফলে নিকাশি ব্যবস্থার কোথায় কোথায় সমস্যা বা বাধা রয়েছে তা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে, বিশেষত ময়নাকপাড়া ও গোলাবাড়িতে, পাম্পিং স্টেশনগুলির কার্যকারিতা ও ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাম্পিং ক্ষমতা স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। হাওড়া ডিভিশন ইতিমধ্যেই একটি অনলাইন স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে পাম্পিং মেশিনগুলির কার্যকরী অবস্থার পাশাপাশি জলস্তরের তথ্য পাওয়া যায়। ফলে রিয়েল-টাইমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পাম্পিং সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত নির্ণয় এবং ভারী বৃষ্টির সময় সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বৈঠকটি দুই সংস্থার মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যাতে সাধারণ মানুষের স্বার্থে উভয় সংস্থা সম্মিলিতভাবে কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারে।
রানি ঝিল, বামনগাছি এবং লিলুয়ার আশপাশের নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়। জল দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা, অতিরিক্ত জল ধারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক নিকাশি নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। হাওড়া পুরনিগম, KMDA এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে কোনা মোড়ের দিকে নিকাশি সংযোগ শক্তিশালী করার একটি প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে হুগলি নদীর দিকে উপযুক্ত জল নির্গমন ব্যবস্থা (outfall) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সাময়িকভাবে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার জন্য উপযুক্ত পুকুর ও ঝিল ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং জল নির্গমনস্থলগুলির ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়।
এছাড়াও, নিকাশি নালা পরিষ্কার করা, নালায় বাধা সৃষ্টি প্রতিরোধ, কার শেড এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং বালি, ডবসন রোড, চার্চ রোড, দশরথ ঘোষ লেন, চাঁদমারি ব্রিজ ও টিকিয়াপাড়ার মতো বিভিন্ন নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যাগুলিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। রেলওয়ে ও পুর প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে এবং নিকাশি লাইনগুলিকে পদ্ধতিগতভাবে সংস্কার ও উন্নত করতে সম্মত হয়েছেন। এর লক্ষ্য হল একটি টেকসই ও সমন্বিত নিকাশি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, পাম্পিং ও জল নিষ্কাশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ করা এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সময় কার্যকরভাবে জল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “এই যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের ফলে ভারী বৃষ্টির সময় রেলযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়ের জন্যই জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি নিশ্চিত হবে।”


