যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে বিলম্ব ঘটেছে। উপাচার্যের গড়া তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে পারেনি এবং নতুন করে প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কদিন ধরেই খবর যাদবপুর। সেখানে ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (ফেটসু)-এর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। সংঘর্ষে দুই শিবিরেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ যাদবপুরের এইটবি বাসস্ট্যান্ডে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। তাদের কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ তুলে দুপুর ১২টায় যাদবপুর থানার সামনে পাল্টা জমায়েতের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি-ও। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত হামলার প্রায় ৩৭ ঘন্টার পর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন উপাচার্য।
যাদবপুর থানায় ই মেল করে তিনি জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে পুলিশের হাতে। ক্যাম্পাসে ঢুকে ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগের পাশাপাশি ছাত্রাবাসে হামলার তদন্তও দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়ার তিন দিন পরও সোমবার রাতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করল যাদবপুর থানার পুলিশ। এদিকে উপাচার্যের গড়া তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করতে পারেনি। সোমবারও যাদবপুর দাঁড়িয়ে রইল প্রায় একই জায়গায়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান পদে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক শুভশঙ্কর সরকারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার তিনি সাফ জানিয় দেন, শারীরিক কারণে এই দায়িত্ব তিনি নিয়ে পারবেন না। এখন প্রশ্ন হল কোনও পথে এগিয়ে যাবে তদন্ত।
ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে সোমবার সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছিল উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্ত, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিবক্স মণ্ডল। থাকার কথা ছিল বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্র প্রতিনিধি এবং অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ ও জুটার সদস্যদের। কিন্তু দক্ষিণপন্থী ছাত্র শিক্ষকেরা বৈঠক সম্পূর্ণ না করেই বেরিয়ে যান।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে সোমবার ফের বৈঠক হয়। সোমবার এই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই কমিটি কাজ করবে। আগামী ২৭ অগস্ট প্রথম বৈঠক হবে তদন্ত কমিটির।


