- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে BJP লিড, ভবানীপুরে কি বিপাকে মমতা? ছাব্বিশের মহারণে মুখোমুখি শুভেন্দু
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে BJP লিড, ভবানীপুরে কি বিপাকে মমতা? ছাব্বিশের মহারণে মুখোমুখি শুভেন্দু
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট। লোকসভা ভোটের নিরিখে কেন এই কেন্দ্র তৃণমূলের জন্য কঠিন লড়াই হতে পারে, তার ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিসংখ্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পড়ুন।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল আসন ভবানীপুর। একদিকে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তবে গত লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ভোটার তালিকার রদবদল তৃণমূল শিবিরের জন্য এক ‘কঠিন লড়াই’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিসংখ্যানের রক্তচক্ষু: ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকে রেকর্ড ৫৮,৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮,২৯৭ ভোটে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ভবানীপুরের মোট ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টিতে বিজেপি লিড পেয়েছে এবং ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে গেরুয়া শিবির ভালো ফল করেছে। তৃণমূল কেবল ৭৩, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে।
জনসংখ্যা ও অ-বাঙালি ফ্যাক্টর: ভবানীপুর একটি কসমোপলিটান বা মিশ্র সংস্কৃতির কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারই অ-বাঙালি। এর মধ্যে হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের বড় অংশ লোকসভা ভোটে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এছাড়া ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার এই কেন্দ্রের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, বড় আবাসন প্রকল্পের নামে স্থানীয় দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের হঠিয়ে পরিকল্পিতভাবে ‘বহিরাগত’ ভোটার আনা হচ্ছে যাতে তৃণমূলের ভোট কমানো যায়।
ভোটার তালিকা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ: সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ভবানীপুর থেকে প্রায় ৪৭,০৯৪ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী একে তৃণমূলের ‘ভুয়া ভোটার’ হঠানোর ফল হিসেবে দেখছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০,০০০-এর বেশি ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, তিনি ৩৬৫ দিন ভবানীপুরের মানুষের পাশে থাকেন এবং ষড়যন্ত্র করেও তাঁকে হারানো যাবে না। সব মিলিয়ে, ২০২৪-এর ওয়ার্ড ভিত্তিক ফল এবং ভোটার তালিকার সমীকরণ ছাব্বিশের নির্বাচনে মমতার নিজের গড়েই তাঁকে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

