CPIM WB Elections 2026: শূন্য কাটাতে সিপিএমের নজরে রাজ্যের যে দশ আসন
CPIM WB Elections 2026: ১০ বছর পর খাতা খুলতে পারবে কি সিপিএম? টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড গড়া সিপিএম গত বিধানসভায় সব আসনে হারে। পাঁচ বছর আগের শূন্যতা ঝেরে এবার ভোটের ময়দানে নয়া উদ্যোমে নেমে বামেরারাজ্যের কোন ১০টি আসনে সবচেয়ে বেশি আশা রয়েছে

১) রানিনগর, মুর্শিদাবাদ (জামাল হোসেন)
Raninagar, Murshidabad, Jamal Hossain
২০২৪ লোকসভা এই একটি মাত্র বিধানসভা আসনে লিড পেয়েছিল সিপিএম। মুর্শিদাবাদ লোকসভায় প্রার্থী হয়ে সিপিএমের মহম্মদ সেলিম রানিনগর বিধানসভায় পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ আবু তাহের খান-কে। ২০২৪ লোকসভায় রানিনগর থেকে সিপিএমের মহম্মদ সেলিম পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৩১০টি ভোট, সেখানে তৃণমূলে আবু তাহের খান পায় ৯৫ হাজার ৫৮৯টি ভোট। ফলে রানিনগরে ৭২১ ভোটের লিডের সুবিধা নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় খাতা খুলতে নামছে সিপিএম।
রানিনগরে সেলিমের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা থাকলেও, সেখান থেকে এবার লড়ছেন জামাল হোসেন। সেখানে এবার রানিনগরে ফের প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ি বিধায়ক আব্দুল সৌমিক হোসেন। যিনি গতবার ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। রানিনগরে সিপিএমেপ সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে কংগ্রেস। কারণ ২০২৪ লোকসভায় সেলিমকে সমর্থন জানিয়েছিল মুর্শিদাবাদে বড় শক্তি কংগ্রেস। সেখানে এবার রানিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী থাকবে।
২) যাদবপুর, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য
Jadavpur, Bikash Ranjan Bhattacharya
যাদবপুরকে বলা হত 'লালগড়'। একটা সময় যাদবপুরে সিপিএম অপ্রতিরোধ্য শক্তি ছিল। ২০০৬ বিধানসভায় এখান থেকেই জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে পরিবর্তনের ভোট ২০১১-এ তৃণমূলের ঝড়ে যাদবপুরে হেরে যান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু পাঁচ বছর পর রাজ্যজুড়ে দিদি ঝড়ের মাঝেও সুজন চক্রবর্তীকে প্রার্থী করে যাদবপুর পুন:রুদ্ধার করে সিপিএম। গতবার এখানে তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদারের কাছে হেরে গেলেও সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড়ের ফায়দা তুলে এবার যাদবপুরে জিতবেন সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনটাই আশা করছেন বাম নেতা, কর্মী-সমর্থকরা।
৩) কামারহাটি, মানস মুখোপাধ্যায়
Kamarhati, Manas Mukherjee
কামারহাটিতে পোড়খাওয়া নেতা মানস মুখোপাধ্য়ায়কে ফিরিয়ে এনে প্রার্থী করে বামেদের আসন জয়ের আশা বাড়িয়েছে সিপিএম। ২০১৬ বিধানসভা ভোটে কামারহাটিতে মদন মিত্রকে হারিয়ে চমকে দেওয়া মানস মুখোপাধ্যায় এবার অঘটন ঘটাবেন বলে আশায় লাল পতাকার সমর্থকরা। যদিও কাজটা কঠিন। কারণ মদনের পাশাপাশি এবার কামারহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরীও ভালভাবে লড়াইয়ে আছেন।
৪) দমদম উত্তর, দীপ্সিতা ধর
Dipsita Dhar, North Dum Dum
দমদমে সিপিএমের সবচেয়ে মজবুত ও ভরসার কেন্দ্র। ২০১৬ বিধানসভা এখানে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য। সেই উত্তর দমদমে এবার সিপিএমের প্রার্থী তরুণী মুখ দীপ্সিতা ধর। দীপ্সিতা এবার উত্তর দমদমে চন্দ্রিমাকে হারিয়ে চমকে দেবেন এমন আশায় বুক বেঁধেছেন বাম সমর্থকরা।
৫) টালিগঞ্জ, পার্থ প্রতিম বিশ্বাস
Tollygunge, Partha Pratim Biswas
টালিগঞ্জে দুই বিশ্বাসের লড়াই বঙ্গ রাজনীতির এক সময়ের মুখরোচক লড়াই ছিল। তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস ও সিপিএমের অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। দীর্ঘ ১৫ বছর পর টালিগঞ্জে ফিরেছে বিশ্বাস দ্বৈরথ। ২০১১-র পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার সিপিএমের প্রার্থী পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। বিজেপির তারকা প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে পিছনে ফেলে বিরোধী ভোট এককাট্টা করে অরূপকে পরাস্ত করবেন পার্থ প্রতিম। এমন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সিপিএমের কর্মী, সমর্থকরা।
৬) উত্তরপাড়া, মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়
Uttapra, Minakshi Mukherjee
এখন সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডের সবচেয়ে বড় মুখ মীনাক্ষী মুখোপাধ্য়ায় এবার উত্তরপাড়া থেকে লড়ছেন। ২০২৪ লোকসভায় শ্রীরামপুর লোকসভায় সিপিএম হারলেও উত্তরপাড়ায় ভাল ভোট পায় বামেরা। উত্তরপাড়ায় কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের পুত্র তথা তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারাতে মরিয়া মীনাক্ষী। সিপিএমের সংগঠনের সব শক্তি উত্তরপাড়ায় প্রয়োগ করতে দেখা যাচ্ছে।
৭) পানিহাটি, কলতান দাশগুপ্ত:
Kalatan Dasgupta, Panihati
অভয়ার কেন্দ্র। আরজিকর কাণ্ডে প্রতিবাদের ঝড় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে বাম আন্দোলনের বড় ভূমিকা ছিল। গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর সবচেয়ে বড় জন আল্দোন ছিল আরজিকর কাণ্ড। সেই আরজিকর কাণ্ডে বাম আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখা কলতান দাশগুপ্ত এবার অভয়া-র কেন্দ্র পানিহাটিতে জিতবেন, আশায় বামেরা। পানিহাটিতে তৃণমূল দাঁড় করিয়েছে এই কেন্দ্রের চারবারের বিধায়কর নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে।
