রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবারের দুর্গাপুজোকে 'পরিবর্তনের পুজো' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবার ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে সরকারি সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এবারের দুর্গাপুজো 'পরিবর্তনের পুজো' হিসেবে পালিত হচ্ছে। রাজ্যের এই সবচেয়ে বড় উৎসবের জন্য ঐতিহাসিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারও দারুণভাবে সাহায্য করছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দিলীপ ঘোষ বলেন, "এবার দুর্গাপুজো পরিবর্তনের পুজো হিসেবেই পালিত হচ্ছে। ঐতিহাসিক সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। আগের সরকার মাত্র ৪৫ হাজার পুজো কমিটিকে আর্থিক সাহায্য করত। কিন্তু এবার ৫৮ হাজার কমিটিকে সাহায্য করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্রামের মানুষের মধ্যে দারুণ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সরকার নিজেই একটা উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছে..."
তিনি আরও বলেন, "বাংলার মানুষ খুব খুশি। এবার পুজোর রূপটাই একেবারে আলাদা। দেখলেই বোঝা যায় যে দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিলীপ ঘোষ
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজো সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "...ওঁকে কোনও পুজোতেই ডাকা হয়নি... ওঁরও পুজোয় অংশ নেওয়া উচিত..."
থিম পুজোর জ্বরে কাঁপছে কলকাতা
এদিকে, কলকাতা জুড়ে দুর্গাপুজোর উৎসব ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে। বেশ কয়েকটি বড় পুজো মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভিড়ও হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। নিজেদের পুজোকে সবার চেয়ে আলাদা করতে উদ্যোক্তারা এবারও দারুণ সব থিমের ওপর জোর দিয়েছেন। শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক নানা ভাবনাকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
কলকাতা এবং এর আশেপাশের এলাকা নানা ধরনের মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা যে কোনও উদযাপনে এই মিষ্টির একটা বড় ভূমিকা থাকে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস যখন বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব তাদের মণ্ডপের মাধ্যমে বাংলার এই মিষ্টির ঐতিহ্যকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
গোটা রাজ্য জুড়েই দারুণ সব মণ্ডপ তৈরি করে দুর্গাপুজো উদযাপিত হয়। ইতিহাস, শিল্প, সামাজিক নানা বিষয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই মণ্ডপগুলো তৈরি করা হয়। এই ধরনের সৃজনশীল থিমের মাধ্যমে পুজো উদ্যোক্তারা স্থানীয় ঐতিহ্য এবং পরিচিত প্রথাগুলোকে তুলে ধরার সুযোগ পান।








