অভিযোগের প্রেক্ষাপট তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত কয়লা পাচার মামলা এবং অর্থপাচার বিরোধী আইন (PMLA) সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান। এছাড়াও শান্তনুর বিরুদ্ধে মেডিক্যাল কলেজে এনআরআই কোটায় ভর্তির দুর্নীতিতেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সদ্য রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর। হানা দিয়েছিল বাড়ির অদূরে পার্টি অফিস ও নির্বাচনী কার্যালয়েও। একযোগে চলে তল্লাশি। এবার রবিবার সাতসকালে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে ইডির হানা! বর্তমানে তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিসি পদে কর্মরত থাকলেও, অতীতে তিনি দীর্ঘ সময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এদিন সকালে শান্তনুর গোলপার্কের বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ির পাশে থাকা সরকারি এক ট্রেনিং সেন্টারেও হানা দেয় ইডি। যদিও সকাল থেকেই সেখানে তালা। তা দেখেই দ্রুত তা খোলানোর তোড়জোড়ও শুরু হয়ে যায়।

সাতসকালে অভিযান ও তল্লাশি রবিবার ভোরবেলা সিজিও কমপ্লেক্স থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে ইডির একাধিক দল অভিযানে বের হয়। সকালের দিকে আধিকারিকরা বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে শান্তনুর বাসভবনে পৌঁছান। তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির চারপাশ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘিরে রাখেন।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত কয়লা পাচার মামলা এবং অর্থপাচার বিরোধী আইন (PMLA) সংক্রান্ত তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান। এছাড়াও শান্তনুর বিরুদ্ধে মেডিক্যাল কলেজে এনআরআই কোটায় ভর্তির দুর্নীতিতেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বালিগঞ্জের গোলমালের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত 'সোনা পাপ্পু'-র মামলার সূত্র ধরেও এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় এর আগে এক আইপিএস আধিকারিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

বেহালাতেও সমান্তরাল হানা একই দিনে ইডির আর একটি দল বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে হানা দেয়। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর আগে দু’বার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকেও বেশ কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

উল্লেখ্য, কয়লা পাচার মামলায় এর আগে শান্তনুকে দিল্লিতে তলব করেছিল ইডি। সেই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং গত সপ্তাহে বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ না করার সাময়িক রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। তবে সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হতেই সরাসরি তাঁর বাসভবনে হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।