পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানার পূর্ব চিলকা গ্রামের ৩ জন নিখোঁজ নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ অভিযোগ জানাতে এসেছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজন হারাদের কান্না বাড়ছে আনন্দপুরের জোড়া গুদাম অগ্নিকাণ্ডে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যে হয়েছে ৮ জনে। 

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানার পূর্ব চিলকা বাসিন্দা কৃষ্ণ মাইতি ডেকোরেটার্স এর কাজ করতেন প্রায় ১০ বছর ধরে। দুদিন আগে কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। তারপর আর কোনও খোঁজ নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন সেখানে কৃষ্ণ মাইতি কাজ করতেন সেখানে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে এসে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি। নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ অভিযোগ জানালেন পরিবারের সদস্য দাদা হরেকৃষ্ণ মাইতি।

পূর্ব মেদিনীপুরের ৩ জন নিখোঁজ 

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ কৃষ্ণর দাদা হরেকৃষ্ণ জানান কারখানার একটিমাত্র দরজা, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কিভাবে বেরোবেন কেউই জানেন না, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন টাকা কি হবে অল্প বয়সে ভাইটা আগুনে পুড়ে মরলো! আর কারো ভাই যেন এইভাবে না মরে সেদিকে সরকার নজর দিন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভাইকে খুঁজে পাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।

একই গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব মাঝি সাত বছর ধরে কাজ করছিল ডেকোরেটারসে ফোনে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে জানতে পারেন আগুন লেগেছে, পরে আর কিছুই খবর পাননি নরেন্দ্রপুর থানায় ছুটে এসেছে পরিবার।

বিশ্বজিৎ ঘড়া ফুলের কাজ করতেন প্রায় দশ বছর কাজ করছেন দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে স্ত্রী বাড়িতে একা, রোজকার বলতে এই ফুলের কাজ করে যে টাকা আসতো সেই টাকায় সংসার চলত, নিজের ছোট্ট কিপ্যাড ফোন দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কথা বলতে বলতে ফোন কেটে যায়। জানিয়েছিলেন পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরবেন। সেই মতো রান্না করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে জানতে পারেন আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে স্বামী কান্নায় ভেঙে পড়েন ঘটনার কথা বলতে বলতে বিশ্বজিৎ ঘড়ার স্ত্রী কবিতা ঘড়া।

আনন্দপুরের মৃত্যুপুরী অগ্নিদগ্ধ গুদামের সামনে স্বজনহারাদের কান্না বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ১৩ জন। মৃত ও নিখোঁজদের অধিকাংশেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। জতুগৃহের সামনে দাঁড়িয়ে রেয়েছে প্রিয়জনের একটা খবরের জন্য।