পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে যাওয়ার পথে 'হরে কৃষ্ণ' কীর্তন গাইতে গাইতে ভোটকেন্দ্রে গেলেন কলকাতার ইসকন সন্ন্যাসীরা। ইসকনের মুখপাত্র রাধারমণ দাসের মতে, যে কোনও শুভ কাজের আগে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে এক অন্যরকম ছবি দেখা গেল কলকাতায়। গেরুয়া বসন পরে, মুখে 'হরে রাম, হরে কৃষ্ণ' এবং অন্যান্য ভজন গাইতে গাইতে ভোট দিতে গেলেন ইসকনের সন্ন্যাসীরা। ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি তথা মুখপাত্র রাধারমণ দাস এই ঘটনাকে ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা শুভ কাজ শুরু করার আগে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। আর ভোটদানও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়ার সময় তাঁরা একসঙ্গে ঈশ্বরের নামগান করার সিদ্ধান্ত নেন।
শুভ কাজের আগে ঈশ্বরের নাম
ইসকনের সন্ন্যাসী ANI-কে বলেন, "এটাই ভারতীয় সংস্কৃতি। যে কোনও কাজ করার আগে আমাদের ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা উচিত। আমরা সবাই একসঙ্গে ভোট দিতে যাচ্ছি। তাই যে কোনও শুভ কাজের আগে ঈশ্বরের নাম নেওয়া দরকার। আমরা সেটাই করছি।" ভোটদানের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি ভুল মানুষের হাতে ক্ষমতা চলে যায়, তবে সাধারণ মানুষ অত্যাচারিত হয়। তাই প্রত্যেককে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩% ভোট পড়েছে, যা তাঁর মতে সারা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এর থেকে বোঝা যায় বাংলার মানুষ কতটা সজাগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই দফায় ভোটদানের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছবে।
ভোটের হারেই স্পষ্ট বাংলার মানুষ সজাগ
রাধারমণ দাস আরও বলেন, "বাংলার মানুষ সজাগ। বাংলা বরাবরই পথ দেখায়। আমরা চাই এবারও সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন এবং ৯৯ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করুন।" একই সঙ্গে, সারা দেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাধারমণ দাস। তিনি বলেন, ভারতের সনাতন সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য, বিশেষ করে হিন্দুদের, সাবধানে চিন্তাভাবনা করে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, "সারা ভারতে হিন্দুদের অবস্থা এমন যে তারা ব্যাকফুটে। ভারতে এমন একটা রাজ্য বা জায়গার নাম বলুন যেখানে হিন্দুরা ব্যাকফুটে নেই। কিছু মানুষ ভারতের সনাতন সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তাই প্রত্যেক হিন্দুর জন্য ভেবেচিন্তে ভোট দেওয়াটা খুব জরুরি।"


