তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল চরমে। দলের টাকায় ভোটে জিতে এখন সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাওয়ায় বিদ্রোহী বিধায়কদের একহাত নিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা নির্বাচনী প্রচারে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিদ্রোহ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। রবিবার দলের নেতা কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, বহিষ্কৃত এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা নির্বাচনের সময় প্রচারের জন্য দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যবহার করেছিলেন। এখন সেই বিদ্রোহী বিধায়করাই দলের অ্যাকাউন্টের তদন্ত চাইছেন। কুণাল দাবি করেছেন, অবিলম্বে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হোক।

কুণালের কটাক্ষ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, বিদ্রোহী বিধায়করা তৃণমূলের প্রতীকে এবং দলের আর্থিক সহায়তায় ভোটে জিতেছেন, আর এখন সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাইছেন। কুণাল বলেন, "বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা নির্বাচনের সময় মোট ২৭ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছেন, যার মধ্যে ২৫ লক্ষ টাকা ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা দলের প্রতীকে এবং দলের টাকায় প্রথমবার বিধায়ক হলেন, আর আজ তাঁরা সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাইছেন। এই টাকা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত।" তিনি বিদ্রোহী বিধায়কদের "বিশ্বাসঘাতক" বলে উল্লেখ করে আরও বলেন যে, তাঁদের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিরোধীদের দ্বারা সাজানো একটি ষড়যন্ত্র।
কুণাল ঘোষ বলেন, "আইন অনুযায়ী, যদি কোনও নির্বাচনী কাজে অবৈধ টাকা ব্যবহার করা হয়, তবে সেই নির্বাচন অবৈধ হয়ে যায়। এটি একটি ষড়যন্ত্র, এবং এই বিশ্বাসঘাতকরা বিরোধীদের পরামর্শে কাজ করছে।" দলের অর্থ ও নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
তৃণমূলী কোন্দল!
এর আগে, বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলের তহবিলের তদন্তের দাবিকে সমর্থন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলের এই টাকার উৎস কী?
ঋতব্রত ANI-কে বলেন, "আসলে, বিধায়কদের কাছে এই বিষয়ে প্রায় কোনও তথ্যই নেই। এই তহবিলের উৎস তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে—এটা কি 'কাটমানি', সরকারি তহবিল থেকে সরানো টাকা, নাকি কেলেঙ্কারির টাকা। এই সবকিছুরই তদন্ত হওয়া দরকার। আমরা নিজেরা এটা প্রমাণ করতে পারব না। তাই আমরা একটি এফআইআর দায়ের করেছি; সরকার তদন্ত করলে সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।" তিনি দলের সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই টাকা এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়—দিল্লি যাওয়ার জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের রাউন্ড ট্রিপের খরচই ৪ থেকে ৪.৫ কোটি টাকা। অথচ, আইনি লড়াই লড়তে থাকা সাধারণ কর্মীদের জন্য দলের কাছে কোনও তহবিল নেই। আমরা এফআইআর-এ বলেছি যে এর তদন্ত হওয়া উচিত এবং এই লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।"
কোটি কোটি টাকা কার?
এদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আবেদন করেছেন। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণেই এই পদক্ষেপ।
কলকাতার একটি HDFC ব্যাঙ্কের শাখার ম্যানেজারের কাছে ১২ জুন তারিখে লেখা একটি চিঠিতে, অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যাঙ্ককে অনুরোধ করেছেন যাতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয় এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দলের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত কোনও ডেবিট লেনদেন বা পরিচালনগত আদেশের পরিবর্তন আটকানো হয়।
তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করার পরেই দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ তীব্র হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠী পরবর্তীকালে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করে।

