দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। দুপুর ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলার সময়ে হঠাৎই প্রতীকের বাড়িতে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী।
I-PAC এর অফিস ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সকালেই আইপ্যাক-এর অফিসে হানা দেয় ইডি। আড়াই বছর আগের কয়লা দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। এরপরেই হঠাত্ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা হাজির হয়ে যান আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে। কিছুক্ষণ পরে মমতাকে দেখা যায় হাতে সবুজ ফাইল, হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরোতে। । বেরোনোর সময় তিনি বলেন, 'এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমার পার্টির আইটি দফতরে ইডির তল্লাশি চালাচ্ছে। সেক্টর ফাইভের অফিসও চলছে। তারা পার্টির হার্ডডিস্ক,পার্টির প্রার্থী তালিকা, পার্টির পরিকল্পনা নিয়ে যেতে চাইছিল। এটা কি ইডি ও অমিত শাহের ডিউটি। তারা আমার পার্টির ডকুনেন্ট নিয়ে যেতে চায়। তাদের কোনও গার্ডস নেই। এসআইর দিয়ে ভোটারদের নাম ডিলিট করছে, তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আমি সব নিয়ে এসেছি। প্রতীক জৈন পার্টির ইনচার্জ। আমি সেক্টর ফাইভেও যাব। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে তল্লাশি করতে যায় তাহলে কী হবে?'
এখান থেকে সোজা মমতা যান আইপ্যাক-এর সল্টলেকের অফিসে। সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে মমতা পৌঁছনোর আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। যান বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। মমতা লিফটে সোজা চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এই বহুতলের ১১ তলায়। কিন্তু মমতাকে দেখা যায় ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফ্টেই তিনি ১১ তলায় পৌঁছেছেন। সেখান থেকেও বেশ কিছু ফাইল নিয়ে মিনিট দশেকের মধ্যেই বেরিয়ে আসেনু এক নিরাপত্তারক্ষী। সেসব ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয়েছে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর হাতে কিছু ছিল না। তবে, তিনি জানালেন, তাঁর মতে এই হানা ‘ক্রাইম’।
মমতা বলেন, 'আপনারা জেনে রাখুন এই আপারেশন করেছে সকালে। যখন কেউ ছিল না। পার্টির ল্যাপটপ, নির্বাচনে পরিকল্পনা, এসআইআর-র নথি ফরেন্সিক টিম নিয়ে এসে ট্রান্সফার করেছে। এটা ক্রাইম। একটা পার্টি অফিসে তল্লাশি। এটা শুধু বেসরকারি সংস্থার অফিস নয়। আইপ্যাক আমাদের পার্টির অথোরাইজড। সব লুট করেছে, টেবিল ফাঁকা পড়ে রয়েছে। কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছে। নতুন করে তৈরি করতে নির্বাচন পেরিয়ে যাবে। আমরা রেজিস্টার্ড পলিটিক্যাল পার্টি। ইনকাম ট্যাক্স দিই। আমাদের অডিট হয়। যদি কোনও প্রয়োজন থাকতো তাহলে ইনকাম ট্যাক্স থেকে কাগজ নিতে পারতো। বিজেপির থেকে কাগজ নেয়নি। সবচেয়ে বড় ডাকাত বিজেপি, ক্রিমিনাল পার্টি। মানি পাওয়ার, মাসল পাওযার ব্যবহার করছে। আমার দলের তথ্য, স্ট্যাটেজি ট্রান্সফার করেছে। তারা কী ভেবেছে, গায়ের জোরে সব দখল করবে। হিম্মত থাকলে বাংলায় ভোটে লড়াই করুন অমিত শাহ। ভোটে জিতে দেখান।'
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে হোয়াটসঅ্যাপে কাজ করছে। কোনও সরকারি নির্দেশ ছাড়াই। এআইআর-র নামে মানুষকে হয়রানি করছে। আমি এখনও চুপ আছি. অনেক সহ্য করছি। অনেক মানুষের মৃত্যুর পরেও চুপ রয়েছি। বিচারের জন্য অপেক্ষা করছি। আপনারা সব সীমা লঙ্ঘন করে দিয়েছেন। আমাদের আইটি অফিসে এসে সমস্ত ডেটা, প্রার্থী তালিকা নিয়ে নিয়েছেন। তারা যে কোনও আইটি সেক্টরে আসতে পারে। এটা কি ক্রাইম নয়, এটা কি স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের হত্যা নয়। প্রতীক না আসা পর্যন্ত আমি এখানে থাকব। নির্বাচনের স্ট্যাটেজি নিয়ে গিয়েছে। আপনারা গণতন্ত্রের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জিতুন। আমাদের লিস্ট, পরিকল্পনা লুট করেছে। পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ হবে। অমিত শাহ আপনারা জিরো হয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলব আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কন্ট্রোল করুন। বিজেপি এতবড় ডাকাত, তবু তাদের ইডি, সিবিআই ডাকে না। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া করলে মেনে নেব না। সৌজন্যতাকে দুর্বল ভাবলে হবে না।’


