অসমর্থিত সূত্রের এক বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগণার একটি নির্জন বাগান বাড়িতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের সঙ্গে অতি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন খোদ অরূপ বিশ্বাস। ভোটের মাঝপথে এই খবর জানাজানি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে যেন পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটে গেছে!

২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের ঠিক মুখে বাংলার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ ‘সুনামি’র ইঙ্গিত! তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা দীর্ঘদিনের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসু কি এবার ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? এই প্রশ্নই এখন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। 

অসমর্থিত সূত্রের এক বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগণার একটি নির্জন বাগান বাড়িতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের সঙ্গে অতি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন খোদ অরূপ বিশ্বাস। ভোটের মাঝপথে এই খবর জানাজানি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে যেন পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটে গেছে!

বাগান বাড়িতে ‘গোপন ডিল’?

সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার ৬৪টি আসন যেখানে জয়-পরাজয়ের প্রধান নির্ণায়ক হতে চলেছে, সেখানে অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ফাটলের আগাম সংকেত। ২০২৬-এর এই যুদ্ধ যে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষের জন্যই ‘করো অথবা মরো’ লড়াই, তা বারবার স্পষ্ট হয়েছে। এই হাই-ভোল্টেজ পরিস্থিতির মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগণার ওই গোপন বৈঠক তৃণমূলের অন্দরে আতঙ্কের কম্পন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অরূপ-সুজিতের মতো নেতাদের দলবদল দক্ষিণবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের স্বপ্নে বড়সড় আঘাত হতে পারে।

অরূপ বিশ্বাসের ‘অস্বস্তি’ ও মেসির কাঁটা:

টালিগঞ্জের টানা চারবারের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘকাল মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। কিন্তু লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে নজিরবিহীন অব্যবস্থা এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগে তাঁর ক্রীড়ামন্ত্রীর গদি চলে যাওয়া এক বড়সড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। মেসির ইভেন্টে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি আগে থেকেই অরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রের খবর, তদন্তকারী সংস্থার ক্রমবর্ধমান চাপ এবং মন্ত্রিসভায় কোণঠাসা হয়ে পড়াই কি তাঁকে বিজেপির দিকে পা বাড়াতে বাধ্য করছে?।

ইডি-র সাঁড়াশি চাপে সুজিত বসু:

অন্যদিকে, বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুকেও নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে ইডি-র তলব তাঁর জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিকভাবে ‘গুরু’ বদলের ইতিহাস সুজিত বসুর নতুন নয়; বাম আমলের ‘গুরু’ সুভাষ চক্রবর্তী থেকে বর্তমান ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—ক্ষমতার অক্ষে তাঁর বিচরণ লক্ষ্যণীয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনিও হয়তো ‘সেফ প্যাসেজ’ খুঁজছেন।

শেষ রক্ষা কি হবে?

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে উত্তরবঙ্গের পর এবার দক্ষিণবঙ্গ দখলের জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছে, তাতে তৃণমূলের এই দুই ‘স্তম্ভের’ টলমল অবস্থা শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও তৃণমূল এই বিষয়টিকে এখনও ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাগান বাড়ির সেই গোপন বৈঠকের মেঘ কত বড় ঝড় হয়ে ফিরে আসে, তা আগামী দিনই বলবে।