Prasanta barman: প্রশান্ত বর্মণ কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই প্রতি মাসে কীভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাচ্ছেন? হাই কোর্টে রাজ্য ও CID-কে তীব্র প্রশ্ন বিচারপতির।

এক বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু এখনও অধরা অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। গত অক্টোবরেই এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তার নাম জড়িয়েছিল। সেই সময় পুলিশের জাল কেটে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। তারপর পথনিরাপত্তা আইনে প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও চম্পট দিতে সক্ষম হয়। জামিনে মুক্তি পেতে সমস্যা হয়নি। তারপর থেকেই বেপাত্তা। কিন্তু এদিন আদালতে একটি মামলার শুনানিতে জানা যায় অপসারিত হওয়ার পরেও প্রশান্ত বর্মন দিব্যি বেতন তুলে যাচ্ছেন। এই কথা শুনেই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সিআইডিকে ভর্ৎসনা করেন। ধমক দেন রাজ্যকেও।

সিবিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সিআইডি-র ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেন। আদালতের বক্তব্য, একজন সপকারি আধিকারিককে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বলে বলা হচ্ছে। অথচ সেই ব্যক্তি কী ভাবে প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাচ্ছেন? সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি নিয়ে সিআইডিকে রীতিমত তুলোধনা করেন বিচারপতি। পাশাপাশি রাজ্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

প্রশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরের একটি খুনের ঘটনা থেকে। বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকার একটি খালধার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে প্রশান্তের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সামনে আসে।

সেই মামলায় প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত। তারই বিরোধিতা করে পুলিশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রশান্ত তা করেনি। জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্ত সিআইডির হাতে যায়। কিন্তু তারপরেও প্রশান্ত অধরাই থেকে যায়।

এই পরিস্থিতিতেই আদালতের সামনে উঠে আসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যদি প্রশান্ত সত্যিই নিখোঁজ হয়ে থাকেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি থাকে, তা হলে তাঁর সরকারি চাকরির বেতন কী ভাবে নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে? শুনানির সময় বিচারপতি জানতে চান, এক জন সরকারি আধিকারিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সরকার জানাচ্ছে, অথচ সরকারি কোষাগার থেকে তাঁর বেতনও যাচ্ছে—এই দুই বিষয় কী ভাবে একসঙ্গে সম্ভব?

আদালতে প্রশান্তের আইনজীবী অবশ্য মামলার অন্য একটি দিক তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে প্রশান্তের নাম নেই। তাঁর মক্কেল এই বিষয়ে পাল্টা হলফনামা দিতে চান বলেও আদালতে জানানো হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও কেন তিনি আত্মসমর্পণ করেননি এবং পুলিশের নাগালের বাইরে থেকেও কী ভাবে সরকারি বেতন পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী তিন সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার আগে রাজ্য ও তদন্তকারী সংস্থাকে এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য দিতে হতে পারে।