পরিচারিকা জানিয়েছেন, ভোরে কলিং বেল চাপতে তিনি ওপর দিয়ে দেখেন একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করতেই লোকটি জল খেতে চান। তিনি অজানা লোক বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। এরপর ওই ব্যাক্তি আবাসনের নয়া সিকিউরিটি গার্ড বলে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রেমদিবসেই দুঃসাহসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। শুক্রবার সাত সকালে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে অভিজাত পরিবারে দুঃসাহসিক লুঠ। বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা সহ সোনার গহনা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতী। ঘটনাটি ঘটেছে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর ভাস্কর মিত্র আবাসনে । এই ঘটনায় আবারও শহরের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

স্থানীয় সূত্রে জানা দেছে, শুক্রবার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে ভয়াবহ লুঠের ঘটনাটি ঘটেছে। তখনও দিনের আলো ফোটেনি। সংবাদ সূত্রের খবর, প্রথমে অসুস্থ বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে মৃত্যু হুমকি দেয় দুষ্কৃতী। আতঙ্কে বৃদ্ধা মুখ খুলতে পারেনি। এরপর আলমারি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এবং সোনার গহনা লুঠ করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী। জানা গেছে, ওই আবাসনে বৃদ্ধা একাই থাকেন, তবে তাঁকে আরেক বৃদ্ধা প্রায় ৩৫ বছর দেখাশোনা করছেন । পরিচারিকা জানিয়েছেন, ভোরে কলিং বেল চিপতে তিনি ওপর দিয়ে দেখেন একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। জিজ্ঞাসা করতেই লোকটি জল খেতে চান। তিনি অজানা লোক বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেন। এরপর ওই ব্যাক্তি আবাসনের নয়া সিকিউরিটি গার্ড বলে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিচারিকা বৃদ্ধা উপর থেকে রিমোট দিয়ে দরজা খুলে নিজে শুয়ে পড়েন। তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, তাই তাঁর মাথা ঘুরছিল। সেই কারণে কলিং বেল বাজানো ব্যক্তির উপরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই শুয়ে পড়েন। এরপরে কি হয়েছে তিনি কিছু জানেন না। ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন, ব্যক্তি উপরে বৃদ্ধাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। অসুস্থ বৃদ্ধার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিলেন বলে তিনি চিৎকার করেননি বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধা।

এখানে একটাই প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের সিকিউরিটি গার্ডকে এড়িয়ে দুষ্কৃতি আবাসনের ভিতরে প্রবেশ করল কী করে? এবং বৃদ্ধার পরিচারিকা না জেনেই একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কেন দরজা খুলে দিলেন? তবে কি এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে? নাকি পরিচারিকা এবং সিকিউরিটি গার্ডের ইন্ধনেই ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকে দুঃসাহসিক লুঠ চালিয়েছে দুষ্কৃতি? এমনই নানা প্রশ্ন ঘুরছে স্থানীয়দের মনে। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই উপস্থিত হয়েছেন বড়তলা থানার পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।