Suvendu Vs Mamata: 'কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করতে পারেননি'। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুমে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে চড়া ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী নিশানা করেন টিএমসি নেত্রীকে। 

'কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ করতে পারেননি'। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা দক্ষিণ কলকাতার সাখআওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালেই মমতার স্ট্রংরুমে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই করতে পারেননি।

স্ট্রংরুম ইস্যুতে উত্তেজনা

বৃহস্পতিরা সন্ধ্যে থেকেই স্ট্রংরুম ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গোটা কলকাতা। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে প্রথমে যান তৃণমূলের শশী পাঁজা আর কুণাল ঘোষ। তারপরই সেখানে যান বিজেপির তাপস রায় আর সন্তোষ পাঠক। বিজেপি আর তৃণমূলের নেতা কর্মীদের মধ্যে 'জয় শ্রীরাম' আর 'জয় বাংলা'স্লোগান ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অন্যদিকে ঝড়বৃষ্টির মধ্য়েই স্ট্রংরুম আগলাতে ভবানীপুরের ইভিএম সামলাতে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা ছিলেন মমতা। যদিও বৃহস্পতিবারই মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীদের কাছে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাতদিন- ২৪ ঘণ্টাই স্ট্রংরুম পাহারা দিতে হবে বলেও জানিয়েছিলেন। সেই সময়ই মমতা জানিয়েছিলেন তিনি নিজেও স্ট্রংরুমের পাহারায় থাকবেন।

স্ট্রংরুম বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ' ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই কেন্দ্রের তৃণমল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়কে কোনও রকম বাড়তি সুবিধে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।' মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, 'উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেড সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওঁকে কড়া নজরদারীর মধ্যে রেখেছিলেন। যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।'

মমতার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার স্ট্রংরুমে গিয়েছিলেন মমতা। সেখানেই তিনি পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জানালেন রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাদের দোষ। তিনি জানিয়ে দেন, পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, পোস্ট্যাল ব্যালট এদিক ওদিক করা হয়েছ। স্ট্রংরুমের বাইরেও সিসি ক্যামেরা রাখার দাবি জানান মমতা। মমতা আরও বলেন,'সাধারণ মানুষ ভোট দিয়েছেন। সেই ভোটে কারচুপি হলে, ভোট লুটের চেষ্টা করলে জীবন দিয়ে লড়ব। আমার এজেন্টকে হেনস্থা করেছে। একপাক্ষিক ভাবে ভোট হয়েছে। তার পরেও ইভিএম লুট করতে যদি এ ভাবে চেষ্টা করে, জীবন বাজি রেখে লড়ব'।