Taratala Accident News: যত দোষ কালীর ঘাড়েই। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোেগের পরই গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ কালীচরণ। কী অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।। 

Taratala Accident News: 'কালীকে গ্রেফতার করলেই সব জানা যাবে।' বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তারাতলার ঘটনা নিয়ে ঠিক এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কে এই কালীচরন? যার নাম নিয়ে কানঘুষোঁ শুরু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে পাকড়াও করল পুলিশ। সূত্রের খবর, তারাতলা গুদাম বিপর্যয় ও বেআইনি নির্মাণকাণ্ডে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ববির) ওএসডি ছিলেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে গ্রেফতার করেছে সিট (SIT)।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গ্রেফতারির মূল কারণ- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি:-

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, পুরসভার কোনও প্ল্যান পাশ করাতে হলে কালীচরণের (যিনি 'কালী' নামে পরিচিত) মাধ্যম ছাড়া তা সম্ভব হয় না। তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং বেআইনি অনুমোদন প্রক্রিয়ার পেছনে তাঁর কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল এবং কেএমসি। তিনি আরও বলেন যে, ''এই কালী ক্যামাক স্ট্রিটের অ্যাপয়েন্ট করা। বাইপাসের ধারে ২০০ কোটি টাকায় তৃণমূলর ভবন বানাচ্ছে এই কালী। এখান থেকে টাকা তুলে পাঠায়।''

কে এই আদতে কালীচরণ?

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর চর্চায় কালীচরণের নাম। এই কালীচরণ হলেন কলকাতা পুরনিগমের চিফ ম্যানেজার। ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন তাঁর ওএসডি ছিলেন কালীচরণ। মেয়রের পাশেই বসে থাকতে দেখা যেত তাঁকে। ফিরহাদ ইস্তফা দেওয়ার পর সাংসদ তহবিল সংক্রান্ত বিভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত কালীচরণ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা গুদামের নকশা-সংক্রান্ত নথি হাতে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভেঙে পড়া গুদামের ত্রুটিপূর্ণ নকশায় স্বাক্ষর রয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। গত ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা এই ছাড়পত্র দিয়েছিল বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কাঠামোয় গলদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ত্রুটিপূর্ণ নকশা অনুমোদন পেল? তাঁর কথায়, এই রকম আরও কত ঘটনা চাপা পড়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই এবং সরকার সমস্ত তথ্য বের করে এনেছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে পাল্টা সরব ফিরহাদ হাকিমও:-

মুখ্যমন্ত্রী যখন বিধানসভায় এই অভিযোগ করছিলেন, সেই সময় ফিরহাদ হাকিম সভাকক্ষে ছিলেন না। পরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি পুরো বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। ফিরহাদের বক্তব্য স্পষ্ট — পুরসভার নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট ও মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির মাধ্যমে। সেই কমিটিতে থাকেন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা। মেয়রের কাছে নথি আসে শুধুমাত্র চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য — কোনটা আইনসম্মত, কোনটা নয়, সেই বিচার করার এক্তিয়ার তাঁর নেই বলে দাবি করেন তিনি। তারাতলার ওই গুদামের নকশার বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই বলেও জানিয়েছেন ফিরহাদ।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে