- Home
- West Bengal
- Kolkata
- Taratala: তারাতলা কাণ্ডে মৃত ১৬, SIT-এর দাবি ২০ লক্ষ টাকার 'ডিলে' বন্ধ হয়েছিল নজরদারি
Taratala: তারাতলা কাণ্ডে মৃত ১৬, SIT-এর দাবি ২০ লক্ষ টাকার 'ডিলে' বন্ধ হয়েছিল নজরদারি
Taratala Case: তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬-তে পৌঁছেছে, উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। তদন্তে SIT-এর দাবি, নির্মাণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ২০ লক্ষ টাকার একটি ডিলের সূত্র মিলেছে, যা নিয়ে জোর তদন্ত চলছে।

মৃত্যুমিছিল থামছে না তারাতলা গোডাউন ভাঙাকাণ্ডে
তারাতলা বিপর্যয়ে আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে। শুক্রবার মৃতের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে একলাফে পৌঁছে গেছে ১৬-তে। উদ্ধারকাজ চলাকালীনই আরও দুটি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসারত আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এদিন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন খালেক সর্দার, বিহারের মুঙ্গেরের ১৯ বছর বয়সী মুন্না কুমার এবং জগদ্দলের ৫৬ বছর বয়সী স্বপন মণ্ডল। বাকি দুজনের পরিচয় রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।

NDRF-এর ৭ টিম মাঠে
উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে NDRF। সাতটি দক্ষ টিম একযোগে কাজ করছে ঘটনাস্থলে। এই উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ভিকটিম লোকেটিং ক্যামেরা এবং লাইফ ডিটেক্টর মেশিন। শুক্রবার ঝড়-বৃষ্টি না থাকায় আবহাওয়া সহায় ছিল, ফলে উদ্ধারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে গভীর রাত বা পরদিন সকালের মধ্যেই সমস্ত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা
তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষোভ একটুও লুকিয়ে রাখেননি। বারবার স্পষ্ট করেছেন যে এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের একেবারে শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাবেন তিনি। দোষীদের পরিত্রাণ পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানেই স্পষ্ট যে এই তদন্ত শুধু ঘটনার উপরিভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না, দুর্নীতির গভীরে পৌঁছাবে।
SIT-এর নজরে ফিরহাদ হাকিমের OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
তদন্তকারী সংস্থা SIT-এর দাবি, তারাতলার বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির একেবারে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধৃত দালাল আব্দুল হামিদ বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির সময়ই কালীচরণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল। ওই এলাকায় জমি-বাড়ির দালালি করা আব্দুল হামিদকে কালীচরণ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে কোনো অনুমোদন পেতে কোনো বাধাই আসবে না এবং নজরদারিও থাকবে না।
২০ লক্ষ টাকার প্রাথমিক ডিল — তারপর সিন্ডিকেটের খেলা
SIT-এর তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবৈধ নির্মাণকাজে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ লক্ষ টাকার ডিল হয়েছিল। এর পরের বাকি অর্থের বিষয়টি নির্ধারণ করবে 'সিন্ডিকেট' — এটাই ছিল চুক্তি। কালীচরণ একাধিক নিয়মবহির্ভূত প্রভাব খাটিয়ে 'গ্রিন সিগন্যাল' আদায় করে নিয়েছিলেন। এই পুরো দুর্নীতির চেইন এখন SIT-এর স্ক্যানারে রয়েছে।
কাগজে সব ঠিক, বাস্তবে সম্পূর্ণ আলাদা
তদন্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে তথ্য উঠে এসেছে তা হলো, কাগজে-কলমে সবকিছু সম্পূর্ণ বৈধ দেখানো হত। কিন্তু নির্মাণস্থলে বাস্তবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কাজ চলত। অর্থাৎ অনুমোদিত নকশার সঙ্গে আসল নির্মাণের কোনো মিলই ছিল না। এই দ্বৈত চরিত্রের প্রতারণাই তারাতলা বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সূত্রের খবর, অনুমোদিত গুদামের নকশায় দেখানো ছিল কংক্রিটের বিম দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে দেওয়া হয়েছিল লোহার বিম।
পরিদর্শন না হলেও কাগজে 'ইনস্পেকশন হয়েছে
SIT-এর তদন্তে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নির্মাণস্থলে আদৌ কোনো পরিদর্শন না হলেও কাগজে-কলমে দেখানো হত 'ইনস্পেকশন সম্পন্ন হয়েছে'। এই মিথ্যা পরিদর্শন রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারের সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল এবং তারপরই মিলত মূল নির্মাণের অনুমোদন। সিটের দাবি, এই গোটা প্রক্রিয়াটিই প্রভাব খাটিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
বিল্ডিং কমিটিতে ত্রুটি ছিল না দাবি
পুরসভার অন্দরমহল থেকে পাল্টা দাবি করা হচ্ছে যে বিল্ডিং প্ল্যানে কোনও ত্রুটি ছিল না। কারণ, মিউনিসিপাল বিল্ডিং কমিটি সেই প্ল্যান অনুমোদন করেছিল। এই কমিটিতে শুধু পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার নন, LBS, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, দমকল ও KMDA-র ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা থাকেন। সকলের সই এবং পুর কমিশনার ও মেয়রের অনুমোদনের পরেই প্ল্যান চূড়ান্ত হয়। তাই বিপর্যয়ের দায় প্ল্যান পাশের পরের ঘটনার উপরই বর্তায় বলে পুরসভার দাবি।
আদালতে কালীচরণ
শুক্রবার কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল আদালতে জানান যে কালীচরণ অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তার মাথায় আরও বড় কেউ আছেন কিনা তা জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, কালীচরণ এভাবে বহু ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়েছেন। অর্থাৎ তারাতলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ দুর্নীতির চেইনের অংশ।
৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত
আদালত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে SIT আরও গভীরে তদন্ত চালাবে এবং দুর্নীতির শিকড় কোথায় পৌঁছেছে তা বের করার চেষ্টা করবে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই মামলায় আরও বড় ও প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। তারাতলা বিপর্যয়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই তদন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।

