২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পোর্টফোলিও জানুন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে ডক্টরেট প্রাপ্ত সুকান্ত মজুমদার এবং অন্যান্যদের বিস্তারিত প্রোফাইল।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই নতুন সরকারের কাণ্ডারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি শনিবার ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ করবেন। অমিত শাহর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শুভেন্দুর নাম সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মুখ্যমন্ত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের প্রোফাইল

শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী): শুভেন্দু অধিকারী নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর (M.A.) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

দিলীপ ঘোষ (উপ-মুখ্যমন্ত্রী): তাঁর পড়াশোনা কতদূর সে বিষয়ে সূত্রগুলোতে কোনো তথ্য নেই। তবে তাঁকে অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যিনি নতুন সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে পারেন

অগ্নিমিত্রা পাল (উপ-মুখ্যমন্ত্রী): মহিলা মুখ হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদের পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে পারেন

গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও মন্ত্রীদের তালিকা

নতুন মন্ত্রিসভায় পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট।

স্বপন দাশগুপ্ত: অর্থ ও পরিকল্পনা দপ্তরের সম্ভাব্য মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একজন তাত্ত্বিক নেতা এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী।

ডঃ শঙ্কর ঘোষ: শিলিগুড়ির এই বিধায়কও একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব এবং গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন।

অন্যান্য মন্ত্রীদের পোর্টফোলিও ও তথ্য

অশোক দিন্দা (ক্রীড়া): ভারতের প্রাক্তন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তিনি যুব পরিষেবা ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন।

নিশীথ প্রামাণিক: তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন।

রত্না দেবনাথ (পুর ও আবাসন): আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা এবং পানিহাটির জয়ী প্রার্থী রত্না দেবনাথ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তবে হলফনামা অনুযায়ী তিনি নিরক্ষর, যা সামাজিক ন্যায়ের লড়াইয়ে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

কৌস্তভ বাগচী (আইন): পেশায় আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী আইন দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন।

রেখা পাত্র (বিপর্যয় মোকাবিলা): সন্দেশখালির প্রতিবাদের মুখ রেখা পাত্র বিপর্যয় মোকাবিলা ও দমকল দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন।

এই নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত পেশাদার এবং প্রান্তিক মানুষদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আগামী শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং শিল্পাঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে, যেখানে নারীদের প্রতিনিধিত্বও চোখে পড়ার মতো। এই নতুন সরকার "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ" মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বাংলাকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে।