- Home
- West Bengal
- Kolkata
- West Bengal Election 2026: অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ, এবার ডিভিশন বেঞ্চে কমিশন
West Bengal Election 2026: অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ, এবার ডিভিশন বেঞ্চে কমিশন
West Bengal Election 2026: ভোট আবহে নির্বাচনের ডিউটি বা প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কলেজের অধ্যাপকরা কাজ করতে পারবেন কীনা তা নিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সিঙ্গল বেঞ্চের পর ডিভিশন বেঞ্চে কমিশন। কী বলল আদালত? জানুন বিশদে…

আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ কমিশনের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কাজে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। অধ্যাপকদের নিয়োগের সঠিক কারণ ও ব্যাখ্যা কমিশন দেখাতে পারেনি বলেই তা খারিজ করে দিয়েছিল সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কমিশন। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আগামীকাল তথা মঙ্গলবার শুনানির সম্ভাবনা।
অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগে বাধা
আসন্ন বিধানসভা ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই নির্দেশের বিরোধীতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অনিচ্ছুক অধ্যাপকদের একাংশ। গত বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে কমিশনকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
ভোটের কাজে কলেজের অধ্যাপকদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা
বিচারপতি কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, 'বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তো আপনারা বিচারকদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন। আমাদের কোনও অসুবিধা নেই, নিয়োগ করতেই পারেন আমাদের। আমরাও পোলিং অফিসার হিসেবে বুথে ডিউটি করতে যাব।' কমিশন আদালতে পাল্টা জানায় নির্বাচনের মুখে মামলার কারণে নতুন করে নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভোট করা সম্ভব নয়। তবে আদালত কমিশনের এই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। তাই ভোটের কাজে কলেজের অধ্যাপকদের কেন নিয়োগ করা হবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার ব্যাখ্যা কমিশনার থেকে চেয়েছিল হাইকোর্ট।
আদালতে ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কমিশন
গত শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে কমিশন তার কোনও সদুত্তর দিতে পারিনি। তাই বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়ে দেন, কী কারনে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার করে পোলিং বুথে পাঠানো হচ্ছিল তার ব্যাখ্যা কমিশনের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতকে তারা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদালত, কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার কমিশনের নির্দেশ খারিজ করছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে মামলা
পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ নিতে চলে গিয়েছেন বা প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেলেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর হবে না। যাঁরা কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁদের ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কোনও ভাবেই যথাযথ কারণ না দেখিয়ে অধ্যাপকদের এমন কোনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না, যা তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁদের এই মামলায় যুক্ত করা হয়নি। কারণ কমিশন বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিল, অনেকের প্রশিক্ষণ হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগে নতুন করে নিয়োগ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া আর সম্ভব নয়। নির্বাচন সঠিক সময় হবে কিনা, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেক্ষেত্রে যাঁদের আপত্তি নেই, তাঁরা ভোটের কাজ করতে পারেন।
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ নিয়ে কী বলল কমিশন?
গত বিধানসভা নির্বাচনেও অধ্যাপকেরা প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ করেছিলেন বলে আদালতে দাবি করে কমিশন। এ বার কেন অধ্যাপকেরা এই কাজে আপত্তি করছেন, তা স্পষ্ট নয় বলে জানায় কমিশন। তবে আদালতের বক্তব্য, অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের সঠিক কারণ জানাতে না পারার জন্যই কমিশনের সিদ্ধান্ত খারিজ করা হয়েছে। এবার আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল কমিশন।

