- Home
- West Bengal
- Kolkata
- রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় আপডেট, মার্চে সত্যিই কি ঢুকছে বকেয়া DA?
রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় আপডেট, মার্চে সত্যিই কি ঢুকছে বকেয়া DA?
৩১শে মার্চের ডেডলাইনের মধ্যে সমস্ত কর্মীর অ্যাকাউন্টে সত্যিই টাকা ঢুকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যায্য পাওনা না মেলে, তবে এপ্রিল থেকে ফের বৃহত্তর কর্মবিরতি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন ক্যালেন্ডারের ৩১শে মার্চের দিকে। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষ হতে চললেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) কর্মীদের হাতে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা।
একদিকে আদালতের কড়া নির্দেশ এবং অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ধাপে ধাপে টাকা মেটানোর বিজ্ঞপ্তি—এই দুইয়ের টানাপড়েনে নাজেহাল দশা কর্মীদের। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায়ে জানায় যে, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের আইনত অধিকার, কোনো দয়া বা দান নয়।
আদালত নির্দেশ দেয় যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া তদারকি করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়।
আইনি চাপের মুখে রাজ্য সরকার গত ১৩ই মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। অর্থ দপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সময়কালের বকেয়া দুটি সমান কিস্তিতে মেটানো হবে, যার প্রথমটি দেওয়া হবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি সেপ্টেম্বর মাসে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে এই বকেয়া মেটানোর কথা ঘোষণা করেন। তবে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে খুশি নন আন্দোলনকারী কর্মীরা।
কর্মচারী সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সামগ্রিক বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটানো। কিন্তু সরকার কেবল ২০১৬ পরবর্তী সময়ের কথা বলে আদালতের নির্দেশকে লঘু করার চেষ্টা করছে। মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষের মতে, “সরকার কেবল ভোটের মুখে কর্মীদের শান্ত করতে এই ‘নির্বাচনী গিমিক’ ব্যবহার করছে।”
বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের বিশাল ফারাক রয়ে গিয়েছে, যা কর্মীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বকেয়া ডিএ আদায়ের দাবিতে গত ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে ‘বন্ধ মোবারক’ বা কর্মবিরতি পালন করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন ওইদিন অনুপস্থিত কর্মীদের বেতন কাটা এবং ‘ডিজ নন’ (সেবামূলক ছেদ) করার হুঁশিয়ারি দেয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অনেক দপ্তরেই এখনও বকেয়া বিল তৈরির কাজ শেষ হয়নি।
ফলে ৩১শে মার্চের মধ্যে সত্যিই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে কি না, তা নিয়ে খোদ সরকারি মহলেই প্রশ্ন উঠছে। যদি এই সময়সীমার মধ্যে পাওনা না মেলে, তবে এপ্রিল থেকে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরকারি কর্মীরা।
