CPIM Jadavpur Rally: বুধবার, ঢাকুরিয়া থেকে সুকান্ত সেতু পর্যন্ত মহামিছিলের ডাক দেয় সিপিএম, সিপিআই, সিপিআই (এম-এল) সহ সমস্ত বামদলগুলি। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশও হয়। যেখানে বক্তব্য রাখেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
CPIM Jadavpur Rally: যাদবপুরে পাল্টা মিছিল বামেদের। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই যাদবপুরে রাখি উৎসব পালন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর আবার সাধুদের সঙ্গে মিছিলেও হেঁটেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া সেই মিছিল থেকে রীতিমতো বামেদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল নয়! সরাসরি এবং একাধিকবার বামেদের নিশানা করেছেন তিনি। এবার সেই রাস্তা দিয়েই পাল্টা মিছিল করল বামেরা (CPIM Jadavpur Rally)। যদিও আগেরবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট বন্ধ ছিল এবং সামনে ছিল পুলিশ পিকেটিং। এবার অবশ্য সেইরকম কিছু চোখে পড়ল না। বরং, বামেদের এই মিছিলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও শামিল হন।
যাদবপুরে পাল্টা মিছিল বামেদের! বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান
বুধবার, ঢাকুরিয়া থেকে সুকান্ত সেতু পর্যন্ত মহামিছিলের ডাক দেয় সিপিএম, সিপিআই, সিপিআই (এম-এল) সহ সমস্ত বামদলগুলি। মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বক্তব্য রাখেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং যাদবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যও। একাধিক ছাত্র-যুব কর্মীরা এইদিন কার্যত, লাল টি-শার্টে মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন। বড়সড় জমায়েত করেই এই মিছিলে নামে বামেরা।

অন্যদিকে, বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি ভয় দেখাচ্ছে। বাংলার মানুষ সেই ভয় কোনওদিন মানেনি। যাদবপুরের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের ভয় পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী এর মধ্যে তিনবার না চারবার এসেছেন। আরও ৩০ বার আসুন। মনে রাখবেন, আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোনও কাজ নেই। অসভ্যতা করে বেড়াচ্ছে।"
একযোগে আক্রমণ সুজন-সেলিমের
সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "সরকারে এসে বলেছিল, শূন্যপদে নিয়োগ করবে। তাদের তো এটা কাজ। করছে না তো। বিজেপি এসে অরবিন্দ ভবনে আগুন ছুঁড়ছে। ওরা জানে না কী করছে! আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদকে বেচে দিচ্ছে। রেল, এলআইসি সব বিক্রি করে দিচ্ছে। বিজেপি আসলে ভুল এবং ফ্যাসিস্ট চিন্তা ছড়িয়ে দিতে চায়। আর যারা সেটার মোকাবিলা করতে পারে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ নেমে আসছে। আমাদের চিন্তার উপর আঘাত নামিয়ে আনছে ওরা। সবসময় মনে রাখবেন, যারা ইতিহাসের চাকাকে পিছনে ঘোরাতে চায়, যারা নতুন ভাবনা চিন্তাকে আঘাত করতে চায়, তাদেরকে রুখে দিতে হবে। নানা মতে এবং নানা পথে তর্ক-বিতর্ক হয়। কিন্তু ওরা কখনও এবিভিপি কিংবা বিজেপি নামে আক্রমণ করতে চায়। গো-মূত্র নিয়ে গবেষণা হবে। আর মহাকাশ, টেকনোলজি, বিজ্ঞান, ইতিহাস, রাজনীতি, ভাষা নিয়ে কোনও রিসার্চ হবেনা। এটাই বিজেপি চায়। বাঙালির পুজো নিয়েও সব ঠিক করে দেবে নাগপুর। আর এখানে একটা গাম্বাট জুটেছে! যার নিজের কোনও ভাবনাচিন্তার ঠিক নেই। নাগপুরকে খুশি করাই তাঁর একমাত্র কাজ। তাই আক্রমণ যখন বাড়ছে, গোটা দেশের মতো আমাদের রাজ্যেও মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছেন। এই আক্রমণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার হরণের চেষ্টা। কিন্তু সেটা হবেনা।"
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।