Mamata On Mukul Roy: প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুল রায়কে 'দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী' ও 'অনেক লড়াইয়ের সঙ্গী' বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতা মুকুল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সোমবার তিনি মুকুল রায়কে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অনেক লড়াইয়ের সঙ্গী বলে উল্লেখ করেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মমতার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, "বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের আকস্মিক মৃত্যু সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অনেক রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গী ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার খবর আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির একেবারে প্রথম দিন থেকেই প্রয়াত মুকুল রায় দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের সব স্তরেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি অন্য পথে গেলেও, আবার ফিরে এসেছিলেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতা অবিস্মরণীয়। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক জগতে তাঁর অনুপস্থিতি অনুভূত হবে। আমি এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার এবং অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমি শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো। এই কঠিন সময়ে আমরা তোমার পাশে আছি।"

মোদীর পোস্ট

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মুকুল রায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সমাজসেবার কথা তুলে ধরেন। এক্স (X)-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জির মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর বিশাল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সমাজসেবায় তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। ওম শান্তি।"

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মুকুল রায় কলকাতার সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, সোমবার ভোররাত ১টা ৩০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মুকুর রায়ের মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলায় রাজনীতিতে মুকুল রায়কে চাণক্য বলা হয়। একটা সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। তৃণমূলের উত্থানের পিছনে তাঁর অবদান অবিস্মরনীয় । কিন্তু সারদা-নারদ কাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকার যখন তৃণমূলের নেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল সেই সময়ই মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির টিকিটে ২০২১ সালে তিনি প্রথম বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পরেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। যদিও পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে গিয়েছিল। মনমোহন সিং জমানায় মুকুল রায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন।